টাইট্রেশন কাকে বলে

Admin
November 28, 2024
544
টাইট্রেশন হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি দ্রবণ অন্য দ্রবণে যোগ করা হয় যাতে এটি এমন পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখায় যেখানে যোগ করা ভলিউম সঠিকভাবে পরিমাপ করা যেতে পারে। এটি একটি চিহ্নিত বিশ্লেষকের একটি অজানা ঘনত্ব নির্ধারণ করতে পরিমাণগত বিশ্লেষণাত্মক রসায়নে ব্যবহৃত হয়। টাইট্রেশনগুলি সাধারণত অ্যাসিড-বেস প্রতিক্রিয়াগুলির সাথে সম্পর্কিত, তবে তারা অন্যান্য ধরণের প্রতিক্রিয়াগুলিকেও জড়িত করতে পারে।
টাইট্রেশন টিট্রিমেট্রি বা ভলিউমেট্রিক বিশ্লেষণ নামেও পরিচিত। অজানা ঘনত্বের রাসায়নিককে অ্যানালাইট বা টাইট্র্যান্ড বলা হয়। পরিচিত ঘনত্বের বিকারকের একটি প্রমিত দ্রবণকে টাইট্র্যান্ট বা টাইট্রেটার বলা হয়। টাইট্রান্টের ভলিউম যা বিক্রিয়া করে (সাধারণত রঙ পরিবর্তন করতে) তাকে টাইট্রেশন ভলিউম বলা হয়।
টাইট্রেশন কাকে বলে
উপযুক্ত নির্দেশকের উপস্থিতিতে একটি নির্দিষ্ট আয়তনের কোন পরীক্ষাধীন দ্রবণের সাথে একটি প্রমাণ দ্রবণের মাত্রিক বিক্রিয়া সংঘটিত করে প্রমাণ দ্রবণের তুল্য আয়তন নির্ণয়ের মাধ্যমে পরীক্ষাধীন দ্রবণের ঘনমাত্রা নির্ণয়ের পদ্ধতিকে টাইট্রেশন বা অনুমাপন বলে।
টাইট্রেশন এর সূত্র
একটি উপযুক্ত সূচক (যেমন ফেনোলফথালিন) যোগ করে বুরেটে অ্যাসিড এবং শঙ্কু ফ্লাস্কে বেস গ্রহণ করে অ্যাসিড বা বেসের অনুমান করাকে টাইট্রেশন বলা হয়। উদাহরণ: 0.1M HCl এর 25ml দিয়ে টাইট্রেট করার সময় 20ml NaOH এর ঘনত্ব গণনা করুন। এক লিটার দ্রবণে উপস্থিত NaOH এর পরিমাণ = 0.125 × 40 = 5g/L।
টাইট্রেশন পদ্ধতি ব্যাখ্যা
টাইট্রেশনে ব্যুরেট পিপেট কনিক্যাল ফ্লাস্ক হলো প্রধান কাচ সামগ্রী। এগুলো যথানিয়মে পরিষ্কার করে কাজ শুরু করতে হয়। ব্যুরেটে অজ্ঞাত (সাধারণত এসিড দ্রবণ) নিয়ে শূন্য দাগ লেবেল করে নিতে হয়। আর পিপেটের সাহায্যে নির্দিষ্ট আয়তনের (5.0 mL বা 10.0 mL) ক্ষার দ্রবণ (প্রমাণ দ্রবণ) কনিক্যাল ফ্লাস্কে নিয়ে তাতে উপযুক্ত নির্দেশক যোগ করে মিশ্রণের বর্ণ অবলোকন করতে হয়। এরপর ব্যুরেট থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে ফোঁটায় ফোঁটায় এসিড দ্রবণ কনিক্যাল ফ্লাস্কের মিশ্রণে যোগ করতে হয়।
যখন কনিক্যাল ফ্লাস্কের মিশ্রণে ড্রপ পড়লে মিশ্রণের বর্ণে পরিবর্তন দৃষ্টগোচর হয় তখন সাবধানে আস্তে আস্তে এসিড দ্রবণ যোগ করতে হয় যেন অতিরিক্ত এসিড যোগে বিক্রিয়ার সমাপ্তি বিন্দু অতিক্রান্ত না হয়। এক্ষেত্রে ব্যুরেট থেকে দ্রবণ যোগ করার কৌশল পূর্বেই বারবার অনুশীলন করে লেখে নিতে হবে। ব্যুরেট থেকে সঠিক পরিমাণ এসিড যোগ করার জন্য প্রক্রিয়াটি কমপক্ষে তিনবার করতে হবে। এক্ষেত্রে এসিড দ্রবণের আয়তন নির্ণয়ের জন্য একটি ছক এঁকে নিতে হবে।
ছকে প্রতিটি পরীক্ষণের জন্য প্রাথমিক পাঠ এবং চূড়ান্ত পাঠের ঘর থাকবে। চূড়ান্ত পাঠের মান থেকে প্রাথমিক পাঠের মান বিয়োগ করলে কনিক্যাল ফ্লাস্কে যুক্ত এসিডের আয়তন পাওয়া যাবে। প্রতিটি পরীক্ষণে ব্যবহৃত এসিডের আয়তনে সর্বাধিক 0.1mL ব্যবধান থাকতে পারে এর বেশি হলে টাইট্রেশনে নির্ণীত ঘনমাত্রার সঠিক মান পাওয়া যাবে না। 0.1 mL ব্যবধান হলো টাইট্রেশনে আয়তন পরিমাপের সূক্ষ্মতা কনিক্যাল ফ্লাস্কের দ্রবণে সঠিক পরিমাণ এসিড যোগ করার পর হঠাৎ মিশ্রণের বর্ণ পরিবর্তন হয়ে যাবে। বর্ণ পরিবর্তন স্থায়ী হলে বুঝতে হবে বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।