রচনা: শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক

ভূমিকা:
জন্ম:
শিক্ষা ও কর্ম জীবন:
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও কৃতিত্ব:
তাঁর চরিত্রে বজ্রের ন্যায় কঠোরতা এবং কুসুমের ন্যায় কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এক অবিসংবাদিত ও জনপ্রিয় নেতা। তিনি ছিলেন অসাধারণ বাগ্মী পুরুষ স্বাধীনচেতা নেতা। তিনি কোনদিন কোন অন্যায়-অবিচারের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি দেশের সর্বহারা কৃষকের দুঃখ-দুর্দশা নিজের হৃদয় দিয়ে অনুভব করতেন এবং সারা জীবন তাদের দুঃখ-দুর্দশা মোচনের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তৎকালে মহাজনেরা চড়া সুদে কৃষকদের টাকা ধার দিয়ে তাদের জমি, বাড়ি, বলদ সব নিলামে তুলে সুদের টাকা আদায় করত। মহাজনদের এই অত্যাচার থেকে কৃষকদের বাঁচাবার জন্য তিনি প্রত্যেক ইউনিয়নে ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন। এই বোর্ডের মাধ্যমে টাকা ধার নিয়ে কৃষকরা মহাজনী সুদের হাত হতে রক্ষা পেত।
কীর্তিসমূহ:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, কলকাতা ব্রার্বোন মহিলা কলেজ, বরিশালের চাখার কলেজসহ তিনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ঢাকায় শেরে বাংলা ফজলুল হক হল তাঁর উজ্জ্বল নাম ধারণ করে আছে। তিনি বাংলার অবহেলিত মুসলমানদের শিক্ষা ও উন্নতি, সুস্থ মানুষের সেবা, অসহায় ও বিপদাপন্ন মানুষকে সহায়তা করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন দানবীর। কাবুলিওয়ালার কাছে সুদে টাকা ধার করে সমস্তই তিনি পরের কল্যাণে দান করে দিয়েছেন।
উপসংহার:
১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল এই মহামনীষী মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর ‘কৃষক-প্রজা পার্টি’ রাজনৈতিক দলের কথা, ১৯৪০ সালে লাহোরে ঐতিহাসিক পাকিস্তান প্রস্তাবের কথা ভোলা যায় না। কিন্তু, মুসলিম লীগ বারবার তাঁর সাথে বেঈমানী করে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি দেখিয়েছিলেন তিনি জনগণের বড় নেতা। ইতিহাসে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।