রচনা: হেমন্তকালীন একটি সন্ধ্যা
-6694ac7365008.png)
ভূমিকা:
দিন আর রাত্রির মিলন কালটাকেই বলা হয় সন্ধ্যা। ধীরে ধীরে দিনের আলো লুপ্ত হয়ে যায়, অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। ঠিক কখন দিন শেষ হল আর কখন রাত্রি শুরু হল, তা নিশ্চয় বলা কঠিন; কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, সন্ধ্যা দিনও নয়, রাতও নয়। এ দুয়ের একটি তেকে আর একটিতে উত্তীর্ণ হবার ক্রান্তিকাল।
বর্ণনা:
ঠিক স্পষ্ট করে চিহ্নিত করা যায় না বলেই বোধ হয় সন্ধ্যাা বড় রহস্যময় বলে মনে হয় আমাদের কাছে। আর সেজন্যই বোধ হয় এত আকর্ষণ সন্ধ্যায়। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষ হলে সন্ধ্যার আবির্ভাব, নাকি সন্ধ্যাাই কর্মবহুল দিনের যবনিকা টেনে দেয়, কে বলবে? ধীর পদক্ষেপে তখন ঘরের দিকে ফিরে কর্মবহুল মানুষ ও পাখির ঝাঁক। চারদিকটা দেখতে দেখতে রঙ বদলায়। গাছের মাথায় পরিপূর্ণ মহিমায় বিলিয়মান রবি-রশ্মি এক অপরূপ সৌন্দর্যালোক সৃষ্টি করে। তা দেখে মনের মধ্যে গুন্ গুন্ করে উঠে, মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় পাখিরা, ওরা নিড়ে ফিরছে। সেই যে ‘স্বপ্ন’ কমিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,
মানসিক অবস্থা:
আমাদের মত ছোটখাট লোকেরা যখন নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে বিড়ম্বিত হয়ে পড়ি, তখন মনে হয় সন্ধ্যার মত আমার ক্ষণিক জীবন দিয়ে ইতিহাসের একটা ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। আমাদের মত অজ্ঞাত, অখ্যাত লোকেরাই মানব জীবনের গ্রন্থি রচনা করেছেন।
উপসংহার:
বর্ষণ মুখর সন্ধ্যা আর হেমন্তকালীন সন্ধ্যার মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট পার্থক্য। আমাদের অনুসন্ধিৎসু মন যদি যে পার্থক্য চিনে নিজকে ধন্য করতে পারে তবেই হবে হেমন্তকালীন সন্ধ্যার প্রকৃত মূল্যালয়।