দ্রুত ব্রণ দূর করার উপায়

দ্রুত ব্রণ দূর করার উপায়
Admin October 15, 2024 376
ব্রণের সমস্যা আপনার ত্বকে আরও অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। নাছোড়বান্দা ব্রণ একবার দেখা দিলে সহজে দূর হতে চায় না। এক্ষেত্রে নানাজন নানা ধরনের উপায় বেছে নেন। তবে কেমিক্যালযুক্ত বিভিন্ন প্রসাধনীর বদলে বেছে নিতে পারেন ঘরোয়া উপায়। ঘরোয়া উপায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিরাপদ। তবে সঠিক উপায় জানা থাকা চাই। এতে সুফল পাবেন সহজেই।

ব্রণের কারণ

নানা কারণে ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। আবার যাদের ত্বক তৈলাক্ত ধরনের, তাদের ক্ষেত্রে ব্রণের সমস্যা বেশি হতে পারে। আমাদের ত্বকে যখন অতিরিক্ত পরিমাণে সেবাম উৎপাদন হয় তখন ত্বকরন্ধ্র বদ্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্রণ দেখা দেয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্রণ দূর করার উপায়-

তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ

ব্রণ দূর করার জন্য প্রথমে মুখের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেইসঙ্গে প্রয়োজন নিয়ম করে মুখ পরিষ্কার করাও। যতকিছুই ব্যবহার করুন না কেন, মুখ যদি পরিষ্কার না থাকে তাহলে কোনো লাভ মিলবে না। তাই সবার আগে মুখের তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

চন্দন ব্যবহার

চন্দনের রয়েছে অনেক গুণ। ত্বক ভালো রাখতে এটি বিশেষভাবে কার্যকরী। ব্রণের সমস্যা দূর করতে চাইলে চন্দন ব্যবহার করতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্রণ দূর করতে সাহায্য করবে। চন্দনের সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণে লাগান। এতে উপকার পাবেন।

হলুদের ব্যবহার

ত্বকের যত্নে হলুদের উপকারিতার কথা সবারই জানা। ব্রণ দূর করার ক্ষেত্রেও হলুদ অত্যন্ত কার্যকরী। হলুদের সঙ্গে সামান্য চন্দন এবং পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণ নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

নিমের পেস্ট ব্যবহার

নিমপাতা নানা ধরণের সংক্রমণ রোধে কাজ করে। এই পাতার তৈরি পেস্ট ব্রণের উপর লাগালেও মিলবে উপকার। আবার চাইলে এর সঙ্গে অ্যালোভেরাও যোগ করতে পারেন। নিমপাতার সঙ্গে অ্যালোভেরা যোগ করে নিন ভালোভাবে। এরপর সেই মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে নিন।

তুলসী পাতার ব্যবহার

তুলসী পাতা কেবল শরীর সুস্থ রাখতেই কাজ করে না, এটি ত্বক ভালো রাখতেও কাজ করে। ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন এই পাতা। তুলসী পাতা বেটে নিন। এরপর তার সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে নিন। নিয়মিত এভাবে ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

বরফ

বরফ লালচেভাব ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে এবং ব্রণের আকারও ছোট করতে সাহায্য করে। একটা পাতলা কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে হালকাভাবে তা ব্রণের উপর এক মিনিট ধরে মালিশ করুন। পাঁচ মিনিট পরে আবার একই কাজ করুন। তবে মনে রাখবেন, প্রতিবার বরফ ঘষার সময় দুবারের বেশি করবেন না। এইভাবে দিনে দু-তিনবার করে বরফ ঘষলে তাড়াতাড়ি ব্রণ দূর করা যায়।

লেবুর রস

লেবুর সিট্রিক অ্যাসিড ব্রণ শুকাতে সাহায্য করে, যা তেল বা সিবাম উৎপাদন কমিয়ে ব্রণ ছোট করে। লেবুর রস অ্যান্টিসেপ্টিকের মতো কাজ করে যা সংক্রমণ ও লালচেভাব কমায়।
ব্রণের উপর তাজা লেবুর রস লাগিয়ে যতটা সময় সম্ভব রেখে দিন। ত্বকে জ্বালাভাবের সৃষ্টি হলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক খুব বেশি সংবেদনশীল না হলে সারা রাত লেবুর রস লাগিয়ে রাখুন আর সকাল হলে ধুয়ে নিন।

মধু

এটা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক যা ব্রণের বাড়তি তরল পদার্থ কমিয়ে সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। একটা ব্যান্ডেজে মধু নিয়ে তা ব্রণের উপরে লাগিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন।  চাইলে মধু ও দারুচিনির বা মধু ও লেবুর রসের মিশ্রণ একইভাবে ব্রণের উপর লাগিয়ে রাখতে পারেন।