বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
Admin November 28, 2024 671
বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী’ কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ‘অগ্নিবীণা’। কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে। এ কাব্যের দ্বিতীয় কবিতা ‘বিদ্রোহী’ এবং প্রথম কবিতা ‘প্রলয়োল্লাস’।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১

পিচ্চিরা এমনি ঘুরে বেড়ায়, কোথাও ৭/৮ জনের একটি গ্রুপ, কোথাও ৫/৬ জনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের মিছিল। মিছিলে স্লোগান দিচ্ছে, আইয়ুব শাহী, মােনেম শাহী— ধ্বংস হােক, ধ্বংস হােক’; ‘আইয়ুব মােনেম ভাই ভাই এক দড়িতে ফাঁসি চাই। আবার মাঝে মাঝে স্লোগান ভুলভাল হয়ে যায়। যেমন- আইয়ুব শাহী, জালেম শাহী’- এর জবাবে বলছে, বৃথা যেতে দেবাে না। কিংবা  শহীদের রক্ত’– এর জবাবে বলছে, ‘আগুন জ্বালাে আগুন জ্বালাে।

ক. কুর্নিশ’ কথাটির মানে কী?
খ. আমি দলে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!’- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের কোন দিকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটিতে ‘বিদ্রোহী কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে কি? তােমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তরঃ কুর্নিশ কথাটির মানে হচ্ছে কিছুটা পিছিয়ে সমপূর্ণ সালাম বা অভিবাদন।

খ উত্তরঃ আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!’- পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি শাসকের অন্যায় শাসনতন্ত্র, নিয়ম-নীতি ভেঙে তথা তার চলার পথের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন। ‘বিদ্রোহী কবিতায় কবি নিজের শক্তির বহুমাত্রিকতাকে বিভিন্ন অনুষঙ্গে তুলে ধরেছেন।

যেগুলাে দিয়ে তিনি মানবসমাজে চলমান সমস্ত অনিয়ম ও উচ্ছঙ্খলতা দূর করতে চেয়েছেন। এ কারণে শাসকের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি বিদ্রোহ ঘােষণা করেছেন। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী কবি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে শাসকের জারি করা অন্যায় বিধি-বিধানের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। তিনি এখানে সমষ্টির মুক্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

যারা মানুষের অধিকার হরণ করে এবং ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা মানুষের শত্রু। কবি তাদের মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন। এ কারণেই তিনি তাদের তৈরি নিয়ম-কানুনকে অস্বীকার করে বলেছেন- “আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!

সারকথা : কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার প্রকৃত বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিতে এবং অসত্য ও অকল্যাণ বাধাকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

গ উত্তরঃ উদ্দীপকের শােষণ-বঞনার প্রতিবাদ এবং শােষকের ধ্বংস নিশ্চিত করার প্রত্যাশার দিকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর হাতে এদেশের মানুষের ভাগ্য শৃঙ্খলিত ছিল। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা সব ক্ষেত্রেই তাদের নিয়ন্ত্রণ এদেশের মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। তাই বাঙালিরা পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের পতনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

উদ্দীপকে পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং তাদের ধ্বংস প্রত্যাশা করা হয়েছে। আইয়ুব খান ও মােনেম খানের অপশাসনের প্রতিবাদে মিছিল হয়েছে। সেই মিছিলে মিছিলকারীরা এক দড়িতে তাদের ফাসি চেয়েছে। এই চেতনা বিদ্রোহী কবিতার শােষকের বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

এ কবিতায় কবি সমস্ত অনিয়ম ও অকল্যাণের অবসান করতে চেয়েছেন। আর এ জন্য তিনি বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি তাঁর আত্মবিশ্বাস ও বিদ্রোহের চেতনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের আত্মজাগরণ ঘটাতে চান। আর এ কারণেই তিনি উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রােল না থামা পর্যন্ত তার। অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

সারকথা : অত্যাচারী শাসকদের ধ্বংস করে সত্য ও ন্যায়ের মাধ্যমে মানবকল্যাণ সাধনের যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে সেই দিক থেকে তা উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।

হুবুহু সৃজনশীল প্রশ্ন খবুই কম কমন পড়তে দেখা যায় । তাই এই পোষ্ট বিদ্রোহী কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর এর পাশাপাশি মূল বই থেকে এ সম্পর্কিত আরও বিষয়বলী গুলো ধারণা রাখুন। এতে করে যেভাবেই প্রশ্ন আসুক যাতে আপনি উত্তর দিতে পারেন। চলুন বাকী অংশ পড়ে নেওয়া যাক।

ঘ উত্তরঃ উদ্দীপকটিতে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। যুগে যুগে বহুবার এদেশের মানুষ শােষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। ন্যায্য দাবি আদায় করতে তারা রাজপথে মিছিল করেছে। শােষকের কবল থেকে মুক্ত হতে তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।

উদ্দীপকে পশ্চিম পাকিস্তানের দুজন শাসকের ফাঁসির দাবিতে শিশুদের স্লোগানের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এ দুজন হলেন আইয়ুব খান ও আবদুল মােনেম খান। এদের ফাঁসির দাবিতে শিশুরা ‘আইয়ুব-মােনেম ভাই ভাই এক দড়িতে ফাঁসি চাই’ বলে স্লোগান দিয়েছে।

তাদের কণ্ঠে এ স্লোগানের কারণ আইয়ুব-মােনেমের অপশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের আপামর জনতার তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। তখন বাঙালিদের সামগ্রিক বিদ্রোহ চেতনায় শিশুরাও অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এ দিকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়টি ছাড়াও কবিতায় আরও প্রসঙ্গ রয়েছে যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।

বিদ্রোহী কবিতায় কবি সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘােষণা করেছেন। তার তীব্র প্রতিবাদী চেতনা তিনি অধিকারবতি সব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন পৃথিবীতে যত দিন অন্যায় থাকবে, যত দিন উৎপীড়িতের কান্নার রােল তার কানে আসবে তত দিন তার বিদ্রোহ অব্যাহত থাকবে। এ চেতনাটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এ দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটিতে ‘বিদ্রোহী কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।

সারকথা : উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন ঘটলেও ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির  জন্য কবির বিদ্রোহ ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখার যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা প্রকাশ পায়নি।