#Quote

জ্ঞানাগ্নি জ্বালিয়া কেন ব্রহ্মময়ীর রূপ দেখ না! সাকারে সাযুজ্য হবে নির্বাণে কী গুণ বলো না। কালী যার হৃদে জাগে, তর্ক তার লাগে কোথা?যে যে ভাবের বিষয়, ভাব ব্যতীত অভাবে কি ধরতে পারে! ত্যাজিব সব ভেদাভেদ ঘুচে যাবে মনের খেদ মা বিরাজে সর্বঘটে, তারা আমার নিরাকার।

Facebook
Twitter
More Quotes by Ramprasad Sen
অশুচি—শুচিকে লয়ে দিব্য ঘরে কর শোভা। যদি দুই সতীনে পীরিত হয়, তবে শ্যামা মাকে পাবা। ধর্মাধর্ম দুটো অজা তুচ্ছ খোঁটায় বেঁধে থোবা, ওরে জ্ঞান খড়্গগে বলিদান, করিলে কৈবল্য পাবা।
কাজ কী রে মন, যেয়ে কাশী। কালীর চরণ কৈবল্যরাশি। সার্ধ ত্রিশ কোটি তীর্থ, মায়ের ও চরণবাসী। হৃৎকমলে ভাবো বসে, চতুভুজা মুক্তকেশী। রামপ্রসাদ এই ঘরে বসে পাবে কাশী দিবানিশি।
ওরে, সকলের মূল ভক্তি। মুক্তি হয় তার দাসী। নির্বাণে কী আছে ফল, জলেতে মিশায় জল। ওরে চিনি হওয়া ভালো নয়, চিনি খেতে ভালোবাসি।
কে জানে রে কালী কেমন! ষড়দর্শনে না পাই দর্শন। কালী পদ্মবনে হংস সনে, হংসীরূপে করে রমণ। তাঁকে মূলাধারে সহস্রারে, সদাযোগী করে মনন। আত্মারামের আত্মাকালী, প্রমাণ প্রণবের মতন। তারা ঘটে ঘটে বিরাজ করেন, – ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা যেমন, মায়ের উদর ব্রহ্মাণ্ড ভাণ্ড, প্রকাণ্ড তা জানো কেমন? মহাকাল জেনেছেন কালীর মর্ম।
ডুব দে মন ‘কালী’ বোলে, হৃদি-রত্নাকরের অগাধ জলে। রত্নাকর নয় শূন্য কখনো। দু-চার ডুবে ধন না পেলে, তুমি দম-সামর্থ্যে এক ডুবে যাও, কুল-কুণ্ডলিনীর কূলে। জ্ঞান-সমুদ্রের মাজে রে মন, শক্তিরূপা মুক্তা ফলে।
ওরে মন বলি, ভজ কালী, ইচ্ছা হয় যেই আচারে। সদা গুরুদত্ত মন্ত্র করো, দিবা নিশি জপ করো। শয়নে প্রণাম জ্ঞান, নিদ্রায় করো মাকে ধ্যান। ওরে নগর ফিরো, মনে করো প্রদক্ষিণ শ্যামা মা-রে। যত শোন কর্ণপটে, সকলি মায়ের মন্ত্র বটে। কালী পঞ্চাশৎ বর্ণময়ী, বর্ণে বর্ণে নাম ধরে। কৌতুকে রামপ্রসাদ বটে, ব্রহ্মময়ী সর্বঘটে। ওরে আহার করো, মনে করো আহুতি দিই শ্যামা মা-রে।
মন রে! কৃষি কাজ জানো না? এমন মানব জমিন রইল পতিত, আবাদ করলে, ফলতো সোনা । কালী নামে দাওরে বেড়া, ফসলে তছরূপ হবে না। সে যে মুক্তকেশীর শক্ত বেড়া। তার কাছেতে যম ঘেঁসে না । গুরুদত্ত বীজ রোপণ করে, ভক্তিবারি তাই সেচো না। ওরে একা যদি না পারিস মন, রামপ্রসাদকে সঙ্গে নে না।
অন্য কে বা জানে তেমন। প্রসাদ ভাষে লোক হাসে। সন্তরণে সিন্ধগমন। আমার প্রাণ বুঝেছে, মন বোঝে না; ধরবে শশী হয়ে বামন! কেবল আসার আসা, ভাবে আসা, আসা মাত্র হলো। রামপ্রসাদ বলে ভবের খেলায়, যা হবার তা-ই হলো। এখন সন্ধ্যা বেলায় কোলের ছেলে, ঘরে নিয়ে চলো ৷
ভেবে দেখো মন, কেউ কারো নয়। মিছে ফেরো ভূমন্ডলে। দিন দু-দিনের জন্য ভবে, ‘কর্তা’ বোলে সবাই বলে। আবার সে ‘কর্তারে দেবে ফেলে। কালা কালের কর্তা এলে। যার জন্য মরো ভেবে, সে কি সঙ্গে যাবে চলে?
মায়ার এ পরম কৌতুক। মায়াবদ্ধ জনে ধাবিত। অবদ্ধ জনে লুটে সুখ। ‘আমি’ এই ‘আমার’ এই এভাব ভাবে মূর্খ সেই। মনরে, ওরে মিছামিছি সার ভেবে, সাহসে বাঁধছি বুক। আমি কে বা তোমার কে বা? মন রে, ওরে কে করে কাহার সেবা? মিছা ভাবো সুখ-দুঃখ। দীপ জ্বেলে আঁধার ঘরে দ্রব্য যদি পায় করে (হাতে) মন রে, ওরে তখনি নির্বাণ করে না রাখেরে এতটুকু। প্রাজ্ঞ অট্টালিকায় থাকো, আপনি আপনা দেখো। রামপ্রসাদ বলে মশারী তুলে দেখরে আপনার মুখ।