#Quote
More Quotes by Jibanananda Das
আমরা হেঁটেছি যারা নির্জন খড়ের মাঠে পউষ সন্ধ্যায়, দেখেছি মাঠের পারে নরম নদীর নারী ছড়াতেছে ফুল কুয়াশার কবেকার পাড়াগার মেয়েদের মতো যেন হায় তারা সব আমরা দেখেছি যারা অন্ধকারে আকন্দ ধুন্দুল জোনাকিতে ভরে, গেছে; যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে । - জীবনানন্দ দাশ
তবু সেদিন আমার এ পথে তুমি এসেছিলে, বলেছিলে যত কথা, কারণ, তখন তুমি ছিলে বন্ধুহীন।
আমরা বেসেছি যারা অন্ধকারে দীর্ঘ শীতরাত্রিটিরে ভালো,খড়ের চালের পরে শুনিয়াছি মুগ্ধ রাতে ডানার সঞ্চার;পুরোনা পেঁচার ঘ্রাণ — অন্ধকারে আবার সে কোথায় হারালো! বুঝেছি শীতের রাত অপরূপ — মাঠে মাঠে ডানা ভাসাবারগভীর আহ্লাদে ভরা; অশত্থের ডালে ডালে ডাকিয়াছে বক; আমরা বুঝেছি যারা জীবনের এই সব নিভৃত কুহক । - জীবনানন্দ দাশ
আমরা মৃত্যুর আগে কী বুঝিতে চাই আর? জানি না কি আহা,সব রাঙা কামনার শিয়রে যে দেয়ালের মতো এসে জাগে ধূসর মৃত্যুর মুখ — একদিন পৃথিবীতে স্বপ্ন ছিল — সোনা ছিল যাহা নিরুত্তর শান্তি পায় — যেন কোন্ মায়াবীর প্রয়োজনে লাগে। কী বুঝিতে চাই আর? রৌদ্র নিভে গেলে পাখিপাখলির ডাক শুনি নি কি? প্রান্তরের কুয়াশায় দেখি নি কি উড়ে গেছে কাক । - জীবনানন্দ দাশ
অনেক কমলা রঙের রোদ ছিল, অনেক কমলা রঙের রোদ, আর তুমি ছিলে, তোমার মুখের রূপ কত শত শতাব্দী আমি দেখি না, খুঁজি না।
চোখে তার যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার! স্তন তার করুণ শঙ্খের মতো–দুধে আর্দ্র-কবেকার শঙ্খিনীমালার! - জীবনানন্দ দাশ
কুড়ি বছরের পরে সেই কুয়াশায় পাই যদি হঠাৎ তোমারে।
যে নদী হারায়ে যায় অন্ধকারে রাতে নিরুদ্দেশে, তাহার চঞ্চল জল স্তব্ধ হয়ে কাঁপায় হৃদয়।
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।
অধ্যাপক, দাঁত নেই—চোখে তার অক্ষম পিঁচুটি; বেতন হাজার টাকা মাসে—আর হাজার দেড়েক পাওয়া যায় মৃত সব কবিদের মাংস কৃমি খুঁটি; যদিও সে সব কবি ক্ষুধা প্রেম আগুনের সেঁক চেয়েছিলো—হাঙরের ঢেউয়ে খেয়েছিলো লুটোপুটি। - জীবনানন্দ দাশ