Reza Kibria
Bangladeshi economist and writer
| Date of Birth | : | 06 March, 1957 (Age 68) |
| Place of Birth | : | Nabiganj, Bangladesh |
| Profession | : | Politician, Economist |
| Nationality | : | Bangladeshi |
রেজা কিবরিয়া (Reza Kibria) একজন বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ, লেখক ও রাজনীতিবিদ। তিনি দীর্ঘসময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় হিসাবে তিনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ ও এর বিভক্ত দল আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পাপুয়া নিউগিনি সরকারের রাজস্ব বিভাগের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। এবং কম্বোডিয়া সরকারের অর্থনীতি ও অর্থসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ম্যাক্রো ফিসক্যাল উপদেষ্টা ছিলেন।
প্রারম্ভিক জীবন
রেজা কিবরিয়া ৬ মার্চ ১৯৫৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব পাকিস্তানে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমায় অবস্থিত জালালসাপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কিবরিয়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতিতে স্নাতক, কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর অর্জন করার পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল অর্জন করেন। এরপর তিনি ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ সালের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পাপুয়া নিউগিনি সরকারের রাজস্ব বিভাগের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। এরপর ৮ বছরের জন্য তিনি পিডিপি অস্ট্রেলিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্ব-আফ্রিকা আঞ্চলিক কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে ২ বছরের জন্য তিনি কম্বোডিয়া সরকারের অর্থনীতি ও অর্থসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ম্যাক্রো ফিসক্যাল উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ইন্টিগ্রো হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।
রাজনৈতিক জীবন
কিবরিয়া প্রথমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। ২০০৭ সালে নাগরিক শক্তি দলে যোগ দিতে তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। ২০১৮ সালে চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে গণফোরামে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। যোগদানের পর তাকে এর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তিনি হবিগঞ্জ-১ আসনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে রেজার বাড়িতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা মুজিবুর রহমান সেফু অবস্থান করছেন এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় মসজিদের মাইকে রেজার বাড়িতে পুলিশ আক্রমণ করছে এমন ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী পুলিশের কাজে বাধা দেয় ও এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রেজা দাবি করেছিলেন যে পুলিশকে অভিযানের জন্য ওয়ারেন্ট দেখাতে বলা হলে তারা তা দেখাতে পারেনি এবং পুলিশ তার নির্বাচনের জন্য ছাপানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ও কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে যায়। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। এরপর তাকে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক করা হলে তা নিয়ে দলে বিতর্ক ও সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে তিনি গণফোরাম ত্যাগ করেন। তবে দল ত্যাগ করলেও জানিয়েছিলেন যে তিনি রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ করেননি। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতি সহানুভূতি আছে জানালেও দলটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান না থাকার কারণ দেখিয়ে তিনি দলটিতে যোগ দিবেন না বলে জানান।
২৬ অক্টোবর ২০২১ সালে তিনি গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হোন। ২০২২ সালে আয়কর নথিতে আয়ের একাধিক উৎস উল্লেখ না করে গোপন করা, মানি লন্ডারিং ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে। একই বছরে জানা যায় যে সংগঠনে সক্রিয়তার অভাবে গণঅধিকার পরিষদের তরুণ কর্মীদের একটি অংশ রেজাকে দলের সদস্য হিসেবে দেখতে চাইছেন না। ফলে দলটির সাথে রেজার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। জুন ২০২৩ সালে গণঅধিকার পরিষদের দুই অংশের বিরোধে দলটি দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে যায় এবং তিনি একটি অংশের আহ্বায়ক থাকেন। গণঅধিকার পরিষদ (রেজা) ত্যাগের ৩ দিন পর ৩ জানুয়ারি ২০২৪ সালে তিনি দলটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। দলত্যাগের কারণ তিনি জানান নি। এরপর মে ২০২৪ সালে তাকে দলটির প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করা হয়। আগস্ট ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তিনি জানিয়েছিলেন যে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে হবিগঞ্জ-১ আসনে দাঁড়াবেন। ২৭ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একটি ভিডিও বার্তায় বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দাবি করেন যে হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান আর্থিক সহায়তা দান করেছেন। ৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে তিনি গণমাধ্যমের নিকট নিশ্চিত করেন যে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়েছেন৷ জানা গিয়েছিল যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী হতে পারেন।
বিতর্ক
২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যদের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে কিবরিয়া কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন যে নিষেধাজ্ঞার পর দেশে এই বাহিনীগুলোর নির্যাতন প্রায় থেমে গেছে। তার উক্ত বক্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
২০২৩ সালে গণঅধিকার পরিষদের তৎকালীন সদস্যসচিব নুরুল হক নুর রেজার বিরুদ্ধে দলীয় কর্মকাণ্ডে অমনোযোগিতার পাশাপাশি ইনসাফ কায়েম কমিটির কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার বিনিময়ে অর্থ পাচ্ছেন এবং গোয়েন্দাদের সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ তুলেন। অন্যদিকে রেজা নুরের বিরুদ্ধে মোসাদ সদস্য ও অন্যান্য শত্রু দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাথে গোপন বৈঠকের পালটা অভিযোগ তুলেছিলেন। নুর ও রেজার মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রতিক্রিয়ায় আসিফ নজরুল রেজাকে দলীয় পদের জন্য অনুপযুক্ত আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন যে রেজাকে যে উদ্দেশ্য নিয়ে দলের আহবায়ক করা হয়েছিল তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে কিবরিয়া দাবি করেন যে এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবু জাহির, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান এবং আওয়ামী লীগ নেতা মুশফিক হোসেন চৌধুরী জড়িত ছিল এবং আবু জাহিরের সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা ও হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র জিকে গউছের মাদক ব্যবসার অংশীদার ছিল বিধায় এদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। এমন দাবির প্রতিক্রিয়ায় জিকে গউছ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন যে কিবরিয়া অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার নাম বলেছে। অন্যদিকে ব্যাপারটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর কিবরিয়া নিজের বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন যে তারা যে নিশ্চিতভাবে দোষী তা তিনি জানেন না। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে কিবরিয়ার দাবির প্রতিবাদে হবিগঞ্জে ঝাড়ু মিছিল করা হয়।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার করার পর গোয়েন্দা শাখার জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রযন্ত্রে প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যে তার পৃষ্ঠপোষকতায় ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি বাংলাদেশ গঠিত হয় এবং করিম রেজা কিবরিয়াকে উপদেষ্টা বানানোর প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হন। তবে কিবরিয়া এই দাবি অস্বীকার করে দলটির সাথে তার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই জানান।
ব্যক্তিগত জীবন
কিবরিয়ার বাবা জালালসাপ নিবাসী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশের ১৮তম অর্থমন্ত্রী। শাহ এ এম এস কিবরিয়া ২০০৫ সালে হবিগঞ্জ জেলায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তার মা আসমা কিবরিয়া চিত্রশিল্পী ছিলেন। ২০১৫ সালে আসমা হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেন। তার বোন নাজলী কিবরিয়া একজন অধ্যাপক, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি সাংবাদিক মোজাম্মেল হকের মেয়ে অভিনয়শিল্পী রিনা সুলতানা কিবরিয়াকে বিয়ে করেছিলেন।
Quotes
Total 0 Quotes
Quotes not found.