হুদায়বিয়ার সন্ধি
Admin
November 23, 2024
631
মহানবী (সা.)-এর জীবনেতিহাসে ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল গভীর। ৬৩০ বা ৬৩১ সালে মহানবী (সা.) ১ হাজার ৪০০ সাহাবির একটি কাফেলা নিয়ে ওমরাহর উদ্দেশ্যে মক্কা অভিমুখে রওনা হন। কুরাইশরা সংবাদ পেয়ে তা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। অথচ মহানবী (সা.) যুদ্ধের জন্য বের হননি। যাওয়ার সময় তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন কেবল কোরবানির পশু। তরবারি ছাড়া কোনো হাতিয়ারও সঙ্গে নেননি। যেন কুরাইশরা বুঝতে পারে, যুদ্ধের কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।
হুদায়বিয়ার সন্ধি
মক্কার অদূরে ‘হুদায়বিয়া’ নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন নবীজি। কুরাইশদের বিষয়টি বোঝানোর জন্য ওসমান বিন আফফানকে পাঠান। কুরাইশরা তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশ করতে দেবে না। এরই মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কুরাইশরা ওসমান (রা.)কে হত্যা করেছে। সংবাদ পেয়ে নবীজি (সা.) সাহাবিদের থেকে আমৃত্যু যুদ্ধের বাইয়াত গ্রহণ করেন। এটাই ছিল ঐতিহাসিক বাইয়াতুর রিদওয়ান।
নবীজির তীব্র প্রতিক্রিয়ার খবর পেয়ে বরফ গলতে শুরু করে কুরাইশ শিবিরে। তারাও আলোচনার জন্য প্রতিনিধি পাঠায়। দীর্ঘ আলাপের পর তাদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির প্রধান ধারাগুলো ছিল এ রকম—
» এ বছর মুসলমানরা ওমরাহ পালন না করেই ফিরে যাবে। আগামী বছর মাত্র তিন দিনের জন্য আসবে। আসার সময় তরবারি ছাড়া কোনো হাতিয়ার সঙ্গে আনতে পারবে না।
» ১০ বছরের যুদ্ধবিরতি হবে। এ সময় কোনো কুরাইশ যদি ইসলাম গ্রহণ করে এবং মক্কা থেকে মদিনায় চলে যায়, তবে মদিনাবাসী তাকে মক্কায় ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবে। অন্যদিকে কেউ মদিনা থেকে মক্কায় চলে এলে তাকে কুরাইশরা ফেরত দেবে না।
» মক্কার আশপাশের গোত্রগুলো বিবদমান দুই পক্ষের যে কারও পক্ষ অবলম্বন করতে পারবে। এই চুক্তির ধারাগুলো বাহ্যত মুসলমানদের জন্য অপমানজনক মনে হলেও এর ফল ছিল সুদূরপ্রসারী। তাই এই চুক্তিকে মহান আল্লাহ তাআলা ‘ফাতহে মুবিন’ বা ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ আখ্যা দিয়েছেন। এর ফলে মুসলমানরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পায়। এই সময়কালেই মহানবী (সা.) পৃথিবীর বিভিন্ন শাসকের কাছে চিঠি লিখে ইসলামের দাওয়াত দেন, যা তিনি এত দিন পর্যন্ত করার সুযোগ পাননি।
এই চুক্তির ফলে মদিনা ও আশপাশের গোত্রগুলো ইসলামকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়। ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে অসংখ্য মানুষ। মক্কা থেকেও বড় বড় কুরাইশ নেতা ইসলামের ছায়াতলে চলে আসেন, যাঁরা পরবর্তী সময়ে ইসলামকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন।
Categories
Latest Blogs
-
পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর নিয়োগ...
February 16, 2026 -
২৮৪ পদে মৎস্য অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি...
February 13, 2026 -
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি...
February 09, 2026 -
বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি...
February 08, 2026 -
খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি...
February 08, 2026