
Raghu Rai
Indian photographer and photojournalist
Date of Birth | : | 18 December, 1942 (Age 82) |
Place of Birth | : | Jhang, British India |
Profession | : | Photographer, Photojournalist |
Nationality | : | Indian |
Social Profiles | : |
Facebook
Twitter
Instagram
|
রঘুনাথ রায় চৌধুরী বা রঘু রাই (Raghu Rai) একজন কিংবদন্তি ভারতীয় আলোকচিত্রী এবং চিত্র-সাংবাদিক। তিনি ভারতের ফটোগ্রাফি দুনিয়ায় মহীরুহ। তাকে "ফাদার অফ ইন্ডিয়ান ফটোগ্রাফি নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত প্রবাদপ্রতিম চিত্র-সাংবাদিক আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন - ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং পরবর্তীতে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ভোপালের গ্যাস ট্র্যাজেডি ইত্যাদির জীবন্ত দলিল উপস্থাপন করে।
সমগ্র পৃথিবী যেমন ঘুরে বেড়িয়েছেন, স্বদেশের কোণে কোণে গেছেন ক্যামেরা হাতে। ধরা পড়েছে দলাই লামার হাসি মুখ, প্রার্থনারতা মাদার বা বিসমিল্লা খাঁর অভিব্যক্তি। সবকিছুই গ্রথিত হয়েছে- "রঘু রাই'স ইন্ডিয়া: রিফ্লেকশসন্স ইন কালার" এবং "রিফ্লেকশসন্স ইন ব্লাক অ্যান্ড হোয়াইট" গ্রন্থে।
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
রঘুনাথ রাই-য়ের জন্ম ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই ডিসেম্বর বৃটিশ ভারতের পাঞ্জাবের অধুনা পাকিস্তানের ঝং নামক এক গ্রামে। মাতাপিতার কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি। তার পিতার আগ্রহ ছিল রঘু যেন একজন ইঞ্জিনিয়ার হন। পড়াশোনা করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দিল্লিতে সরকারি চাকরিও নিয়েছিলেন। কিন্তু ভালো লাগেনি। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা শরমপাল চৌধুরী (এস পাল) ফটোগ্রাফার হিসাবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তিনি নিজের মনের কথা দাদাকে জানালে তিনি ভাইয়ের আগ্রহ দেখে তাকে এক বন্ধুর কাছে পাঠালেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে দাদার সেই বন্ধুর কাজ দেখতে গ্রামে গেলেন, ঘুরলেন আর শিখলেন নিজের মতো করে। জীবনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে গেল ফটোগ্রাফি।
কর্মজীবন
১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার ইংরাজী দৈনিক দ্য স্টেটসম্যানের দিল্লি কার্যালয়ে প্রধান ফটোগ্রাফার হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি দ্য স্টেটসম্যান ছেড়ে কলকাতা হতে প্রকাশিত “সানডে” ইংরাজী সাপ্তাহিক পত্রিকার চিত্র-সম্পাদকের পদে যোগ দেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে রঘু রাই-এর কাজ দেখে মুগ্ধ হন ফরাসি মানবতাবাদী ফটোগ্রাফার হেনরি কারটিয়ের-ব্রেসন। তিনি রঘু রাই'কে তার প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা- ‘ম্যাগনাম ফোটো’জে চিত্র-সাংবাদিক হিসাবে নিযুক্ত করেন।
ইতিমধ্যে ভারত তথা বিশ্ব দেখেছে বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাসের দিনগুলি তার ক্যামেরায়। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি “সানডে” ছেড়ে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইংরাজী ভাষায় নিউজ ম্যাগাজিন ইন্ডিয়া টুডে পাক্ষিকের সূচনাকালে চিত্র-সম্পাদক/ভিজ্যুয়ালাইজার/আলোকচিত্রী হিসাবে কাজ করেন। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বিশেষ বিশেষ সংখ্যা, অলংকরণ, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ের উপর সচিত্র নিবন্ধে অবদান রাখতেন। তিনি ইন্ডিয়া টুডে পাক্ষিকের ফটোগ্রাফির পরিচালক পদেও ছিলেন। রঘু রাই ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিন বার ওয়াল্ড প্রেস ফোটো প্রতিযোগিতায় এবং তথা ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক ফটো প্রতিযোগিতায় দু'বার জুরির পদে ছিলেন।
ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ কোণে কোণে কাজের অভিজ্ঞতা আছে। রঘু রাই'স দিল্লি, দ্য শিখস, ক্যালকাটা, খাজুরাহো, তাজমহল, টিবেট ইন এক্সাইল, ইন্ডিয়া, মাদার টেরেসাসহ আঠারোটির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর বহু চিত্র-প্রবন্ধ টাইম, লাইফ , জিও, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং নিউ ইয়র্কার সহ অনেক ম্যাগাজিন এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে । যখন তিনি ইন্ডিয়া টুডে'র চিত্র-সাংবাদিক ছিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রিনপিসের জন্য ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংবলিত তথ্যচিত্রের কাজ সম্পন্ন করেন। এটি পরবর্তীতে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে স্থান পেয়েছে- এক্সপোজার: এ পোর্ট্রেট অফ কর্পোরেট ক্রাইম শীর্ষক গ্রন্থে এবং সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার বিংশতি বর্ষে ভারত ছাড়াও বিদেশে ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি স্থান প্রদর্শনীও হয়। রঘু রাই এর মাধ্যমে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের যারা এখনো ভোপাল সংলগ্ন এলাকায় ক্ষতিপূরণ ছাড়া বিষাক্ত পরিমণ্ডলে বসবাস করছেন, তাদের সহায়তা প্রদানে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের চেতনা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছিলেন।
Quotes
Total 0 Quotes
Quotes not found.