
Mamunul Haque
Date of Birth | : | 10 November, 1973 (Age 51) |
Place of Birth | : | Munshiganj, Dhaka |
Profession | : | Islamic Scholar |
Nationality | : | Bangladeshi |
Social Profiles | : |
Facebook
Instagram
|
জন্ম
শিক্ষাজীবন
কর্মজীবন
পিস টিভি বাংলায় মামুনুল হক
পরিবার
গ্রেফতার
দৃষ্টিভঙ্গি
ভাস্কর্য ও মূর্তি
জামায়াতে ইসলামী
১৯৭২’র সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র
উপাধি
প্রকাশনা
বইসমূহ
- কারাগার থেকে বলছি (২০১৩)
- মেহরাব ও মিম্বারের কথা
- সময়ের পয়গাম
- স্বাধীনতা সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা
- সত্যের পথে সংগ্রাম
- নারী অধিকার : ব্যাখ্যা ও ভ্রান্তি নিরসন
- পহেলা বৈশাখ : ইসলাম কি বলে?
- সফল মুমিনের পরিচয়
- একটি দ্বীনি দাওয়াত
- খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা : পরিচিতি ও নীতিমালা
- ইসলামি আন্দোলনে চাই জিন্দাদিল কর্মী
- ইসলামি সংগঠনে নেতৃত্ব ও আনুগত্য
- নেতৃত্ব, আনুগত্য ও ইসলামি জীবন
- ইসলামি সংগঠন কি এবং কেন?
সমালোচনা
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে “আপত্তিকর বক্তা” হিসেবে চিহ্নিত করে। ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি ঢাকায় একটি সম্মেলন করে ভাস্কর্য ও মূর্তি নির্মাণকে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড হিসেবে উপস্থাপন করেন, শেখ মুজিবুর রহমানসহ কারো ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না, বলে মন্তব্য করেন এবং এই মূর্তি সংস্কৃতিকে রুখে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে আবার শাপলা চত্বরে যাওয়ার হুমকি দেন। তার এই মন্তব্যে আওয়ামী লীগসহ ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১৫ নভেম্বর শ্যামা পূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের গোল পাহাড় কালী মন্দিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় মামুনুল হককে ইঙ্গিত করে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল বলেন, “সাবধান হন, না হলে ঘাড় মটকাতে সময় লাগবে না।” ১৬ নভেম্বর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠন কর্তৃক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। গ্রেফতার না হওয়ায় এই সংগঠনটি ২১ নভেম্বর আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং মামুনুল হককে গ্রেফতারসহ সরকারকে ৭ দফা দাবি জানায়। ২৬ নভেম্বর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে তাকে জঙ্গিবাদী আখ্যায়িত করেন এবং লেজ কেটে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একই দিন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও কৃষক লীগ চট্টগ্রামে একটি সমাবেশ করে চট্টগ্রাম জেলায় যেকোন মূল্যে মামুনুল হককে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন এবং তার একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। পরদিন, ২৭ নভেম্বর, হাটহাজারীতে মামুনুল হকের সমাবেশ ছিল।সেদিন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনগুলো চট্টগ্রামের বিমানবন্দর ও শহরের প্রবেশপথগুলো ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করে। ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কর্মীরা কয়েক ঘণ্টার জন্য রাস্তা অবরোধ করে রাখেন এবং মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে দেন। মামুনুল হক বাধা উপেক্ষা করেই হাটহাজারীতে আসেন। পরবর্তীকালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের অনুরোধে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। বাধাদানে ক্ষুব্ধ হয়ে মামুনুল হকের কয়েক হাজার সমর্থক ফেসবুকে গ্রুপ খুলে এবং ঢাকার বায়তুল মোকাররমে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ হয়, বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ২৮ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের সংগঠনটি মামুনুল হককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবিতে ১ ঘণ্টার জন্য শাহবাগ অবরোধ করে রাখে। ৩০ নভেম্বর ফরিদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী তাকে “খেলা হবে” বলে চ্যালেঞ্জ করেন এবং সাহস থাকলে যুবলীগের সঙ্গে মাঠে নামতে বলেন। ১ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে দেশের প্রায় ৬৫টি সংগঠন মামুনুল হককে গ্রেফতারের দাবি করে। এই সমাবেশে বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক ভাস্কর্য ইস্যুতে মামুনুল হকের বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে “পরিণতি ভাল হবে না” বলে মন্তব্য করেন। ৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের আপত্তিতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় তার সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, নড়াইলসহ কয়েকটি জায়গাতেও তার সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৪ ডিসেম্বর তার সমর্থনে পল্টনে ভাস্কর্যবিরোধী মিছিলের চেষ্টা করা হলে পুলিশের লাঠিচার্জে তা পণ্ড হয়ে যায়। ৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ মামুনুল হকের নামে “রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা” করার ঘোষণা দেয়।সেই রাতে কুষ্টিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের একটি নির্মাণাধীন ভাস্কর্যে ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীকালে অভিযুক্তরা মামুনুল হকের বক্তব্যে উৎসাহিত হয়ে এই কাজ করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে। ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়। আদালত ৭ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে মামুনুল হক বলেন, “তিনি তার কথা বলেই যাবেন।” ৯ ডিসেম্বর ভাস্কর্যবিরোধী ষড়যন্ত্র ও মামুনুল হকের বক্তব্যে সহযোগিতার অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হলে, তা আদালতে খারিজ হয়ে যায়। ১০ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাস্কর্য বিরোধী বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে” মামলার আবেদন করা হয়। আদালত এই আবেদন আমলে না নিয়ে আবেদনকারীদের থানায় যাওয়ার আদেশ দেয়।
মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় জামায়াত ঘনিষ্ঠতার নানা অভিযোগ আনা হয়; কিন্তু তিনি এগুলো অস্বীকার করেন ও অভিযোগ "ভিত্তিহীন" বলে আখ্যায়িত করেন।
২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর ফরিদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী এক বক্তব্যে মামুনুল হককে জঙ্গি আখ্যায়িত করে বলেন, “এ মঞ্চে এসে নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে। প্রশাসনের লোক আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। আমরা কি ভীতু যে আমাদের প্রশাসনের লোক নিরাপত্তা দেবে? আমাদেরকে পাহারা দিতে হবে না। যদি পাহারা দিতে হয় জঙ্গি মামুনুল হকদের দেন। কারণ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম প্রস্তুত হচ্ছে আরেকটি যুদ্ধের জন্য।”
একইদিন বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টির সভাপতি ইসমাইল হোসাইন এক মানববন্ধনে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় মামুনুল হককে অভিযুক্ত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ইসলাম ও আলেম সমাজের জন্য যা কিছু করেছেন, অন্য কোনো সরকার তা করে নাই। মাদ্রাসাছাত্রদের দিয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুর করে সারাদেশের সব মাদ্রাসাছাত্রকে অপমান করছে মামুনুল হকরা।”
ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলে, তিনি এই ঘটনাকে অনভিপ্রেত আখ্যায়িত করে বলেন, আমি কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বলি নি।
১৭ ডিসেম্বর কুমিল্লায় একটি মাহফিলে গোপনে যোগদান করে বক্তব্য রাখার অভিযোগে মামুনুল হক ও খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।
শাল্লায় হিন্দু পল্লীতে হামলা
মূল নিবন্ধ: ২০২১ বাংলাদেশে হিন্দু বিরোধী সহিংসতা
এক হিন্দু যুবক তাকে কটূক্তির অভিযোগে ১৭ মার্চ ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের হবিবপুর নোয়াগাঁও গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮৮টি বাড়িঘর এবং ৭/৮টি পারিবারিক মন্দির ভাংচুর চালায়। এই ঘটনায় দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে শামছুদ্দিন চৌধুরী মানিক, শাহরিয়ার কবির সহ অনেকেই তাকে গ্রেফতারের দাবি জানায়। কিন্তু এখানো এই ঘটনায় তার এবং তার সংগঠনের কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় নি।
বিলাসবহুল গাড়ি বিতর্ক
২০২১ সালের ৬ মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় টেলিভিশন ডিবিসি নিউজ সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিসহ একটি সংবাদ ভাইরাল করা হয়, যাতে দেখা যায় মামুনুল হককে বহনে দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে। তার এত সম্পদের উৎস জানতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হলেও পরবর্তীকালে সংবাদটি অপপ্রচার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সোনারগাঁ রিসোর্টে অবরুদ্ধ
২০২১ সালের ৩ এপ্রিল মামুনুল হক সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে একজন নারীসহ অবকাশযাপন করছিলেন। এ খবর পেয়ে স্থানীয় কিছু লোকজন এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখে লাঞ্ছিত করে ও পরে প্রশাসনকে খবর দেয়া হয়। মামুনুল উক্ত নারীর নাম আমিনা তৈয়ব উল্লেখ করে তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবী করেন। তবে উক্ত নারী জিজ্ঞাসাবাদে নিজের নাম জান্নাত আরা বলে পরিচয় দেন। মামুনুলকে রিসোর্টে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়িয়ে পরলে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে ওই রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীকালে সেই রিসোর্টে এবং পার্শ্ববর্তী মহাসড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় হেফাজত কর্মীরা বিক্ষোভ, ভাঙচুর করে। মামুনুল হক দাবী করেন জিজ্ঞাসাবাদের নামে কিছু মানুষ তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে হেনস্তা করেছেন। এই ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উক্ত নারীর প্রকৃত নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা; যাকে মামুনুল আমিনা তৈয়ব এবং দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবী করেছেন; সেই আমিনা তৈয়বা মুলত তার প্রথম স্ত্রীর নাম। এবং তিনি আমিনার (প্রথম স্ত্রী) নামেই রিসোর্টে সেদিন কক্ষ বুকিং করেছেন। মামুনুল হক ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে বলেন; তাদের মধ্যে একটি মানবিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সেখানে দাবী করেন হাফেজ শহিদুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শহিদুল এবং শহিদুলের স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের পরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি শহিদুলের সাবেক পত্নীকে বিবাহ করেন। ৪ এপ্রিল সংসদে ফাঁস হওয়া একটি ফোনালাপের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন উক্ত নারী মামুনুল হকের স্ত্রী নন একই সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মামুনুলের কৃতকর্মের সমালোচনা করে বিনোদনের অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেন।
মামুনুলের পরিবারের বিভিন্ন সদস্য ও তার সহযোগীদের একাধিক ফোনালাপ পরবর্তীকালে ফাঁস হয়। মামুনুল হক ৩ এপ্রিল তার সংগঠনের কর্মীদের সাহায্যে রিসোর্ট থেকে বের হয়ে কল করেন তার প্রথম স্ত্রী আমিনা তৈয়বকে। সেই ফোনকলে তিনি উক্ত নারীকে জনৈক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতির কারণে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছেন, বলেন তিনি। এছাড়াও মামুনুল তার প্রথম স্ত্রীকে শিখিয়ে দেন, তিনি যে সব জানেন সে কথা যে কেও জিজ্ঞেস করলেই যেন বলেন। মামুনুলের বোনও মামুনুলের প্রথম স্ত্রীকে এই বিয়েটা (মামুনুলের দ্বিতীয় বিয়ে) তার সম্মতিতে হয়েছে- একথা বলতে শিখিয়ে দেন; এরকম একটি ফোন কল অডিও ফাঁস হয়। হেফাজতের দুই নেতা মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডকে ভুল আখ্যায়িত করে হেফাজতের মান বাঁচানো ও যেকোনো মূল্যে তাদের অবস্থান শক্ত করে ধরে রাখার পরামর্শমুলক কথোপকথনও ফাঁস হয়ে যায়।
মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় পুত্রর একটি ভিডিও ৫ এপ্রিল ফেসবুকে আলোচিত হয়। সেখানে সে মামুনুলের পরকিয়াজনিত কারণে তাদের জন্মদাতা পিতা মাতার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে বলে দাবী করে। একইসাথে রিসোর্টঘটিত ঘটনার জন্য তাদের দুইভাইয়ের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে। এছাড়াও মামুনুলকে বিভিন্ন নেতিবাচক শব্দে ভূষিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।১০এপ্রিল সে তার ও তার মায়ের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করে।
৮ এপ্রিল এক ফেসবুক লাইভে মামুনুল হক আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, স্ত্রীকে খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে সত্যকে গোপন করা যায়। তিনি দাবী করেন ইসলামি শরিয়ত অনুসারে তার এ এখতিয়ার আছে। এছাড়াও তিনি বলেন, তার স্ত্রীদের সাথে ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করার মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
৪ এপ্রিল মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় সুনামগঞ্জে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ৫ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা পুলিশের এক এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইদিন সোনারগাঁওয়ের ওসিকে বদলি করা হয়। ২৪ নভেম্বর আদালতে ঝর্ণার দেওয়া জবানবন্দি অনুসারে মামুনুল ঝর্ণাকে বিয়ের প্রলোভনে রয়েল রিসোর্ট ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে; মর্মে জবানবন্দি দেন।
তৃতীয় স্ত্রী উধাও
মামুনুল রিসোর্টে অবরুদ্ধ থাকার ৮ দিন পর ১১ এপ্রিল জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি নামক এক নারীকে খুঁজে না পাওয়ায় উক্ত নারীর ছোট ভাই মো. শাহজাহান থানায় জিডি করেন। তিনি জানান মামুনুল হকের সাথে ওই নারীর বিয়ে হয়েছে; এমন দাবী মামুনুল হক শাহজানের কাছে করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে মাস্টার্স করার সময় জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পরিচয় হয় মামুনুল হকের। পরবর্তীকালে সেই নারীর ডিভোর্স হয়। পরবর্তীকালে মহিলা মাদ্রাসায় জান্নাতুলকে শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেন মামুনুল হক। উক্ত মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা মামুনুল হক ছিলেন এরপর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মামুনুল হক রিসোর্টে অবরুদ্ধ থাকার ঘটনার পর থেকে উক্ত নারীকে মামুনুল হক তার বড় বোন দিলরুবার মোহাম্মদপুরের বাসায় রেখেছেন। যদিও সেই নারীর সাথে তার আত্মীয়স্বজন যোগাযোগ করতে পারছে না।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল মামুনুল হকের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কুষ্টিয়ায় ২৫ জন আহত হয়। ১৮ এপ্রিল তাকে গ্রেফতারের ঘটনায় বিক্ষোভে বাগেরহাটে পুলিশের ৫ সদস্যকে মারধর করা হয়।