সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
Admin November 30, 2024 1307
সুভা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর একটি সুন্দর এবং গভীর চিন্তা-ভাবনার ফল। এই উত্তরগুলি গল্পের মূল বার্তা ও চরিত্রগুলির মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে সাহায্য করে। সৃজনশীলতার মাধ্যমে, পাঠকরা গল্পের বিভিন্ন দিক অন্বেষণ করতে পারে এবং এটি তাদের চিন্তা ও অনুভূতির জগৎকে আরও বিস্তৃত করতে সহায়ক হয়।

সৃজনশীল প্রশ্নের

খেলার সাথি না জুটলেও সে নিঃসঙ্গ নয়। বিকেল বেলায় সে বাড়ির দিঘির শান বাঁধানো ঘাটে গিয়ে বসে। স্নিগ্ধ শীতল জলের সঙ্গে তার দরদভরা আলাপ চলে। এ সবের মাঝে সে মুক্তির আনন্দ খুঁজে পায়। পরবর্তীতে পারমিতাকে পাত্রস্থ করার জন্য তার পিতামাতাকে বেশি ভাবতে হয়নি। প্রতিবেশী আলম সাহেব পারমিতাকে তার পুত্রবধূ হিসেবে বরণ করে নেন ।

ক. প্রতাপের প্রধান শখ কী?
খ. সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের পারমিতার মুক্তির আনন্দের সাথে সুভা চরিত্রের যে দিকের মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের পারমিতার জীবনের পরিণতির বিপরীত চিত্র সুভার জীবনে মর্মবেদনার কারণ”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
 

উত্তর

ক. প্রতাপের প্রধান শখ ছিল ছিপ ফেলে মাছ ধরা।

খ. বিদেশযাত্রার উদ্যোগ শুরু হলে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। মেয়ের বিয়ে নিয়ে বাবা শঙ্কিত। একদিন সপরিবারে তারা কলকাতা যাবার আয়োজন করে। বিদেশযাত্রার এ উদ্যোগ সুভার মনে অজানা আশঙ্কার সৃষ্টি করে। এ আশঙ্কা থেকেই তার হৃদয় অনুবাষ্পে ভরে গিয়েছিল।

গ. উদ্দীপকের পারমিতা আর গল্পের সুভা দুজনেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে মুক্তি খুঁজে পায়, যা তাদের মধ্যে মিল তৈরি করেছে।
“সুভা” গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। সুভার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। বাবা স্নেহ করলেও সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি শাঙ্কিত। সমবয়সি ছেলেমেয়েরা সুভাকে ভয় করত। তার সাথে মিশত না। আর তাই সুভা প্রকৃতিতে আশ্রয় খুঁজে নেয়। গোয়ালের দুটি গাভি তার বন্ধু। এছাড়া প্রকৃতি যেন তার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
উদ্দীপকের পারমিতা সুভার মতোই শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে অন্য কারো সাথে না মিশে সুভার ন্যায় প্রকৃতির আশ্রয় নেয়। দিঘির শান বাঁধানো ঘাটে স্নিগ্ধ শীতল জলের সাথে সে কথা বলে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সে খুঁজে পায় মুক্তির আনন্দ। ‘সুভা’ গল্পের সুভা আর উদ্দীপকের পারমিতা প্রকৃতিকন্যা। তারা উভয়ই প্রকৃতির কাছে মুক্তির আনন্দ পায় আর এখানেই পারমিতার সাথে সুভা চরিত্রের মিল।

ঘ. পারমিতা এবং সুভা দুজনেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও পারমিতার মতো ইতিবাচক পরিণতির অভাবই সুভার জীবনে মর্মবেদনার উৎস হয়ে উঠেছে।
‘সুভা’ গল্পের সুভা হতভাগ্য কিশোরী। জন্ম থেকে বাকপ্রতিবন্ধী সুভাকে তার বাবা-মা বোঝা মনে করতেন। মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় থাকতেন। অন্যদের কথায় তাঁদের এ দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে বোঝামুক্ত হওয়ার জন্য সুভার বাবা-মা তাকে কলকাতা নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে তার নির্বিবাস বিয়ে হয়েছে তা যেমন আমাদের জানা নেই তেমনি প্রতিবেশী প্রতাপের সঙ্গেও তার বিয়ে হলো না।
উদ্দীপকে আমরা দেখি পারমিতা জন্মান্ধ। একাকী শান্ত দিঘির জলের পাশে বসে সে মুক্তির আনন্দ পায়। পারমিতা বড়ো হলে তার মাকে পারমিতার বিয়ের জন্য সুশ্চিন্তা করতে হয়নি। প্রতিবেশী আলম সাহেব তাকে পুত্রবধূ হিসেবে বরণ করে নেন।। সুভা ও পারমিতার জীবন সমান্তরালে চলছিল। দুজনেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সমাজের দৃষ্টি দুজনের প্রতি দুরকম। জন্মাদ পারমিতা সুতার মতো সমাজের অবহেঙ্গার পাত্রী হয়নি। প্রতিবেশী আলম সাহেব পারমিতাকে পুত্রবধূ হিসেবে বরণ করেছেন। কিন্তু সুতার জীবনে পারমিতার মতো কোনো পাত্র জোটেনি। পাত্রের সন্ধানে তাকে চির পরিচিত গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাতে হয়েছে। আর এটাই সুভার জীবনে মর্মপীড়ার কারণ। ফলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সৃজনশীল

মানুষের তাকানোর শক্তি, তাকিয়ে থাকা মানুষের অভিব্যক্তি বোঝার শক্তি নিয়ে ভাবলে অবাক হতে হয়। কোনো কথা না বলেও কোনো শব্দ উচ্চারণ না করেও শুধু তাকিয়ে থাকার নানান ভঙ্গিতে প্রকাশিত হতে পারে অজস্র কথা। মানুষ যে প্রকৃতই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তার জন্য চিৎকার করবার প্রয়োজন নেই। কোনো কোনো নির্বাক মানুষের বাকশক্তি কোনো কোনো অন্ধ মানুষের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক বাকশক্তি ও দৃষ্টিশক্তিকে হার মানায়। এই যেমন— মহাকবি হোমার চক্ষুহীন হয়েও রচনা করেছেন ‘ইলিয়াড’ ও ‘এডেসির’ মতো কালজয়ী মহাকাব্য।

ক. “গোরা” কোন শ্রেণির রচনা?
খ. “মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’- বাক্যটির মানে কী?
গ. ‘কিন্তু কালো চোখকে কিছুই তর্জমা করতে হয় না’ সুভা গল্পের এই উক্তির সঙ্গে অনুচ্ছেদের সম্পর্ক নির্ণয় করো।
ঘ. “সব মানুষই শ্রেষ্ঠ। কথাটি সর্বক্ষেত্রে সত্য নয়।” মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. ‘গোরা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস।

খ. ‘মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’ বাক্যটির মাধ্যমে প্রাবন্ধিক মাছ ধরার সময় নীরব সঙ্গের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ তেমন কোনো কাজ করত না। শখের বশে ছিপ দিয়ে মাছ ধরেই সময় কাটাত সে। এ উপলক্ষে নদীর সুভার সঙ্গে তার দেখা হতো। প্রতিদিন বিকেলে মাছ ধরার সময় সঙ্গী হিসেবে সুভাকে পাওয়াটা তার জন্য ছিল বিশেষ প্রাপ্তি। কেননা, সুভা নির্বাক হওয়ার মাছ ধরার ক্ষেত্রে যেমন বিঘ্ন ঘটত না, পাশাপাশি সময়ও ভালো কাটত। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে এ বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।

গ. অভিব্যক্তি প্রকাশে ইন্দ্রিয়ের ক্ষমতা প্রকাশের সূত্রে ‘সুতা’ গল্পের প্রশ্নোক্ত উক্তিটির সঙ্গে আলোচ্য উদ্দীপকের মিল পরিলক্ষিত হয়।
“সুভা” গল্পের সুভা চরিত্রের মধ্য দিয়ে গল্পকার এক বাকপ্রতিবন্ধীর ভাবসে মুক্তির আনন্দ পায়। পারমিতা বড়ো হলে তার মাকে পারমিতার বিয়ের জন্য সুশ্চিন্তা করতে হয়নি। প্রতিবেশী আলম সাহেব তাকে পুত্রবধূ হিসেবে বরণ করে নেন।। সুভা ও পারমিতার জীবন সমান্তরালে চলছিল। দুজনেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও সমাজের দৃষ্টি দুজনের প্রতি দুরকম। জন্মাদ পারমিতা সুতার মতো সমাজের অবহেঙ্গার পাত্রী হয়নি। প্রতিবেশী আলম সাহেব পারমিতাকে পুত্রবধূ হিসেবে বরণ করেছেন। কিন্তু সুতার জীবনে পারমিতার মতো কোনো পাত্র জোটেনি। পাত্রের সন্ধানে তাকে চির পরিচিত গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাতে হয়েছে। আর এটাই সুভার জীবনে মর্মপীড়ার কারণ। ফলে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

ঘ.‘সুভা’ গল্পে গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাকে কেন্দ্র করে বাকপ্রতিবন্ধীদের মনোযাতনাকে তুলে ধরেছেন। নির্বাক হওয়ায় সুভার বিয়ে হচ্ছিল না বলে তার বাবা-মাকে প্রতিবেশীদের নিন্দা সহ্য করতে হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ অজুহাতে সুভার পরিবারকে তারা একঘরে করতে চেয়েছে।
উদ্দীপকে মনোতার প্রকাশের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় ক্ষমতার বিশেষ প্রয়োগ সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেখানে ইন্দ্রিয় ক্ষমতা, বিশেষ করে চোখের ভাষার অসাধারণ বোধগম্যতার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের দিকটিও উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক মনে করেন, স্বাভাবিক সৃষ্টিশক্তি নয়, বরং মহাকবি হোমারের মতো গভীর অন্তদৃষ্টিই মানুষকে শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করে।“সুভা” গল্পের মূল চরিত্র বাকপ্রতিবন্ধী সুভা। নির্বাক হওয়ার কারণে অনেকে তার সমব্যথী হলেও কিছু লোক তাকে অবহেলার দৃষ্টিতেই দেখত। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে বলে তারা সুভার বাবাকে সুভার বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এমনকি তাদের গ্রামছাড়া করার পায়তারা করে। মূলত তাদের এমন কর্মকাণ্ডের কারণেই সুভা বাবার সঙ্গে। কলকাতায় পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রে সুভা এবং তার পরিবারের অন্তর্ঘাতনাকে উপলব্ধি করলে তারা এমনটি করতে পারত না। একইভাবে, আলোচ্য উদ্দীপকেও গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও বিবেচনাবোধকেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের নির্ণায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা আলোচ্য গল্পের সুভার পরিবারের সমালোচকদের মাঝে অনুপস্থিত। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোপ্ত মন্তব্যটি যথাযথ অর্থবহ।