সুজুকি মনোটন

সুজুকি মনোটন
Admin December 29, 2024 281

ডিজাইন এবং আউটলুক

নতুন Suzuki Gixxer Monotone বাইকটির ডিজাইন ও আউটলুক আধুনিক, এবং অতুলনীয়। জ্বালানি ট্যাংকটি আগের ভার্সনের মত প্রায় একই রকম হলেও মনোটোনের ট্যাংকটির আকৃতি বেশ সুন্দর এবং অ্যাগ্রেসিভ আউটলুক দেয়। জিএসএক্স-এস১০০০ মডেলটির সাথে এই বাইকের সামনের দিকের অনেক মিল রয়েছে। সাইড থেকে এর পেশীবহুল ডিজাইন, বড় জ্বালানি ট্যাংক, ট্যাংকের পাশের অংশ, স্প্লিট স্টাইলের সিট, ইত্যাদি সবকিছুই বেশ বলিষ্ঠ লাগে। সুজুকি জিক্সার মনোটোন দাম-এর বিচারে বাইকটির বডির এই ডিজাইনগুলো প্লাস্টিকের হওয়ায় প্রিমিয়াম অনুভব একটু কম, তবে এই কারণে বাইকটির ওজনও বেশ কম আর ব্যালেন্সও চমৎকার। সাইডের মিররগুলোতে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়াও বাইকটিতে রয়েছে ক্রোম ফিনিশিংসহ একটি সিগনেচার ডুয়াল স্পোর্ট মাফলার। সুজুকি জিক্সার মনোটোন ফিচার হিসেবে এতে কোনো ইঞ্জিন কভার বা হ্যান্ডেলবার এন্ড না থাকলেও, বাইকটিতে রয়েছে সাইড স্ট্যান্ড, অনন্য স্বচ্ছ এলইডি টেইল-লাইট, এবং একটি স্প্লিট গ্র্যাবিং বার।

ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স

সুজুকি জিক্সার মনোটোন দাম-এর সাপেক্ষে বাইকটি বাংলাদেশে অ্যাসেম্বল করা হলেও এর ইঞ্জিনটি জাপানে তৈরি। আর তাই ইঞ্জিনের কোয়ালিটি নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। জিক্সার মনোটোন বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫৪.৯ ডিসপ্লেসমেন্টের একটি সিঙ্গেল সিলিন্ডার, এয়ার কুলিং, ৪ স্ট্রোক, ২ ভালভ, এসওএইচসি ইঞ্জিন। সুজুকি জিক্সার মনোটোন রিভিউ অনুযায়ী এই বাইকের ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ শক্তি পাওয়া যাবে ৮০০০ আরপিএম-এ ১৪.৬ বিএইচপি, আর সর্বোচ্চ টর্ক পাওয়া যাবে ৬০০০ আরপিএম-এ ১৪ এনএম। এছাড়াও Suzuki Gixxer Monotone বাইকটিতে বিএস৪ ইঞ্জিন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে, যা আরো বেশি ব্যবহার-বান্ধব এবং এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের লেটেস্ট সুজুকি জিক্সার মনোটোন ফিচার।

ট্রান্সমিশন

৫-স্পিডের ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স এবং ওয়েট মাল্টিপ্লেট টাইপ ক্লাচসহ Suzuki Gixxer Monotone বাইক থেকে কোনও রকম ভাইব্রেশন ছাড়াই সর্বোচ্চ স্পিড পাওয়া যাবে ঘন্টায় ১২৫ কিমি পর্যন্ত। ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তির বদলে এই বাইকের জ্বালানি সাপ্লাই হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কার্বুরেটর। এছাড়াও সুজুকি জিক্সার মনোটোন ফিচার হিসেবে বাইকটিতে পাবেন সিডিআই ডিজিটাল ইগনিশন সিস্টেম।

বাইকের মাপ, টায়ার এবং সিটিং পজিশন

নতুন Suzuki Gixxer Monotone বাইকটি লম্বায় তুলনামূলক ছোট আকৃতির মনে হলেও এর মাপ যথেষ্ট স্ট্যান্ডার্ড এবং প্রশস্ত। বাইকটির দৈর্ঘ্য ২০৫০ মিমি, প্রস্থ ৭৮৫ মিমি এবং উচ্চতা ১০৩০ মিমি। সিটিং পজিশনটি অন্যান্য বাইকের তুলনায় একটু ছোট হওয়ায় রাইডারের সাথে একজন পিলিয়ন এতে বসতে পারবেন। বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬০ মিমি, যা কিছুটা নিচু। ১৩৩০ মিমি হুইলবেইজের এই মোটরসাইকেলটির সিট হাইট ৭৮০ মিমি, যা বেশ ভালোই।


সুজুকি জিক্সার মনোটোন দাম-এর সাপেক্ষে বাইকটির সামনে ১০০/৮০-১৭ সেকশনের টিউবলেস টায়ার এবং পেছনে ১৪০/৬০-১৭ সেকশনের রেডিয়াল টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। এই বাইকটির সামগ্রিক ওজন ১৩৫ কেজি, যা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী বাইকগুলোর তুলনায় বেশ হালকা। ডিজাইন বেশ উন্নত হওয়ায় টপ স্পিডে বাইক চলানোর সময় বেশ ভালো অ্যারোডাইনামিক অনুভব করা যায়, আর রাইডার বেশ আরামে হাই স্পিড উপভোগ করতে পারবেন।

সাসপেনশন ও ব্রেক

সুজুকি জিক্সার মনোটোন দাম-এর সাপেক্ষে বাইকটির সাসপেনশন হুবহু জিক্সার এসএফ বাইকের মত। সামনের চাকায় টেলিস্কপিক ফোর্কস এবং পেছনে মনোশক সাসপেনশনসহ সুইং আর্ম ব্যবহার করা হয়েছে। বাইকটির সাসপেনশনপগুলো বেশ স্পোর্টি, আর মনোশক থাকার কারণে টপ স্পিডেও রাইডার বেশ ভালো ব্যালেন্স পাবেন। এছাড়াও সুজুকি জিক্সার মনোটোন ফিচার হিসেবে এতে সিঙ্গেল ডাউন-টিউব টাইপ চ্যাসিস ইনস্টল করা হয়েছে।

Suzuki Gixxer Monotone বাইকটির সামনে ২৬৬ মিমি ডিস্ক ব্রেক, আর পেছনে ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে। বাইকটির একটি ডাবল ডিস্ক ভার্সন ছিলো যার উৎপাদন এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জিক্সার প্রেমীরা এই ব্যাপারটি নিয়ে একটু হতাশ, তার উপর এখনও মনোটোন বাইকটিতে এবিএস দেয়া হয়নি।

মাইলেজ

Suzuki Gixxer Monotone বাইকটি আর দশটা স্পোর্টস বাইকের মতই স্ট্যান্ডার্ড মানের জ্বালানি দক্ষতা দেয়। সুজুকি জিক্সার মনোটোন ফিচার হিসেবে কিছু কিছু রাইডারের ভাষ্যমতে বাইকটি গড়ে প্রতি লিটারে ৪৫ কিলোমিটারের বেশি মাইলেজ দিতে সক্ষম। ১২ লিটার জ্বালানি ধারণক্ষমতার নেকেড স্পোর্টস টাইপ বাইকটির জন্য এই মাইলেজ বেশ সন্তোষজনক। লং ট্যুরে মোটরবাইক নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জ্বালানি দক্ষতা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে হবে না।

ইলেকট্রিক্যাল প্যানেল ও ফিচার

সুজুকি জিক্সার মনোটোন দাম-এর সাপেক্ষে এর ইলেকট্রিক্যাল প্যানেলটি দুর্দান্ত। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইলেকট্রিক্যাল কনসোলটিতে দেয়া হয়েছে একটি কমলা রঙের এলসিডি ডিসপ্লে, যাতে আপনারা পেয়ে যাবেন সব রকম প্রয়োজনীয় ফিচার ও ইনডিকেটর। স্পিডোমিটার, ট্যাকোমিটার, ক্লক, ট্রিপ মিটার, ফুয়েল গেইজসহ আরো বিভিন্ন ইনডিকেটর দেখা যাবে এই সম্পূর্ণ ডিজিটাল কনসোলে।

বাইকটির হেডলাইটটি ১২ ভোল্ট ৩৫/৩৫ ওয়াটের হ্যালোজেন বালব, সাইড ইনডিকেটরগুলোও হ্যালোজেন টাইপ। জিক্সার মনোটোন বাইকটির অনন্য স্বচ্ছ এলইডি টেইল-লাইট বাইকটির আউটলুক অনেক বেশি স্পোর্টি করে তুলেছে। এছাড়াও সুজুকি জিক্সার মনোটোন ফিচার হিসেবে এই বাইকে রয়েছে ইঞ্জিন কিল সুইচ এবং পাস সুইচ। এই সবগুলো ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রী একটি মেইনটেনেন্স-ফ্রি (এমএফ) ১২ ভোল্ট ব্যাটারির সাহায্যে চলে।


কালার অপশন

সুজুকি জিক্সার মনোটোন দাম অনুযায়ী বাইকটি আমাদের দেশের মোটরসাইকেল বাজারে বেশ কিছু আকর্ষণীয় কালার অপশনে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ৪টা মূল কালার হচ্ছে- মেটালিক ট্রাইটন ব্লু, পার্ল মিরা রেড, গ্লাস স্পার্কেল ব্ল্যাক এবং হোয়াইট। এছাড়াও বাংলাদেশের মোটরবাইক মার্কেটপ্লেসে এই বাইকটির কিছু ডুয়াল টোনের কালার অপশনও পাওয়া যাবে। ভার্সন অনুযায়ী আরো কিছু আকর্ষণীয় কালার অপশনের দেখা পাবেন সুজুকির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আর শো-রুমগুলোতে।