রচনা: বাংলাদেশের বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ
Admin
July 07, 2024
1032
সূচনা:
উন্নয়ন পরিকল্পনার অর্থ সংস্থানের জন। অনুন্নত দেশগুলোকে এক বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ, এসব দেশে পুঁজি গঠনের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন। ফলে এসব দেশকে বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়। বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্ব প্রয়োজনের তুলনায় এসব দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও অত্যন্ত কম। এসব দেশকে কারিগরি সাহায্য, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রপাতির খুচরা অংশ ইত্যাদি আমদানি করতে হয়। কেননা, এগুলো ছাড়া উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সবে নয়। অত্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার কথা বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ।
বৈদেশিক সাহায্যের উপকারিতা:
সাফল্যজনকভাবে উন্নয়ন কর্মসূচি কার্যকর করতে গেলে বাংলাদেশ শুধুমাত্র তার নিজস্ব সম্পদের উপর নির্ভর করতে পারে না। আমাদের যন্ত্রপাতি এবং কারিগরের অভাব; কিন্তু এগুলো ছাড়া উন্নয়ন কিছুতেই সম্ভব নয়। আমাদের জনসাধারণের অল্প পরিমাণ দেশীয় সঞ্চয় কোন কাজেই আসবে না, যদি না এগুলোকে পণ্য বা যন্ত্রপাতিতে রূপান্তরিত করা হয়। এ প্রতীয়মান হয় যে, বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। যে কোন প্রকারেই হোক না কেন, আমরা বৈদেশিক সাহায্য এড়াতে পারি না। কিন্তু তাই বলে বৈদেশিক সাহায্যের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করা এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা- এর কোনটাই আমাদের কাম্য নয়। বৈদেশিক সাহায্যের অপকারিতা বৈদেশিক সাহায্যের যেমন উপকারিতা আছে, তেমনি আবার কিছু কিছু অপকারিতাও আছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো-
(ক) বৈদেশিক সাহায্যের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হওয়া মঙ্গলজনক নয়। উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদের সঠিক মূল্যায়নে তা অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করে। তাছাড়া, বৈদেশিক সাহায্য যদি আকস্মিকভাবে স্থগিত হয়ে যায়, তখন তা উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থসংস্থানে সাংঘাতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়।
(খ) অনেক সময় সাহায্য প্রদানকারী দেশসমূহের নির্দেশানুযায়ী উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরি করা হয়। কিন্তু এরূণ ব্যবস্থা দেশের বৃহত্তম ফল্যাণের লক্ষে সহায়ক নয়। এতে অনেক প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রকৃত প্রস্তাবে উপেক্ষিত হতে পারে।
(গ) বৈদেশিক সাহায্যের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা অভ্যন্তরীণ প্রচেস্টাসমূহের প্রেরণা ও উদ্যম কমিয়ে দেয়।
(ঘ) কিছু কিছু বৈদেশিক সাহায্য ঋণের আকারে দেওয়া হয়। এসব ঋণ পুনরায় বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। ফলে দেশের বৈদেশিক ঋণের বোঝা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
(ঙ) ঋণ বা সাহায্য একটি জাতির আত্মমর্যাদাবোধ ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। এর ফলে সাহায্যের প্রতি বিরাট অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এভাবে সাহায্য প্রদানকারী এবং সাহায্য গ্রহণকারী দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তিক্ত ও অপ্রীতিকর হয়ে উঠতে পারে।
(চ) অনেক ক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্যের অধিকাংশ অর্থ এমনভাবে বায় করা হয় যে, তাতে সাহায্যপ্রাপ্ত দেশের কোন থায়ী কল্যাণ সাধিত হয় না।
উপসংহার:
একটি জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্চিত করার জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হওয়া মোটেই উচিত নয়। বরং সেই জাতির উচিত পরমুখাপেক্ষিতার পরিমাণ হ্রাস করতে সচেষ্ট হওয়া এবং নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সম্পদের উপর নির্ভরশীল হওয়া। এ উদ্দেশ্যে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য সর্বপ্রকারের চেষ্টা করা আবশ্যক। এ বাপারে উন্নত দেশগুলোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অনুন্নত দেশের তৈরি পণ্য আমদানির উপর থেকে বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করা উচিত। এতে সেসব দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।
Categories
Latest Blogs
-
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) নিয়োগ...
March 13, 2026 -
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়োগ...
March 11, 2026 -
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নিয়োগ...
March 09, 2026 -
পুলিশ নিয়োগ ২০২৬
February 27, 2026 -
প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি...
February 26, 2026