পরিবার কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি
Admin
November 27, 2024
1248
সমাজের ক্ষুদ্রতম একককে পরিবার বলা হয়। একজন শিশু তার অঙ্গ সঞ্চালন, আচার আচরণ, হাঁটাচলা, শিক্ষার প্রথম আলো ইত্যাদি নিজ পরিবার থেকেই পেয়ে থাকে। সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক গোষ্ঠী হলো পরিবার। যেকোনো সমাজ সৃষ্টির পূর্বে এক বা একাধিক পরিবার গঠিত হয়েছে। পরিবারে এমন এক সামাজিক গোষ্ঠী জল সাধারণত আবাসস্থল, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং প্রজনন এর সাথে সম্পর্কিত। সামাজিকভাবে স্বীকৃত কোন দম্পতি যখন একবার একাধিক সন্তান নিয়ে বসবাস করে তখন তাকে পরিবার বলে। তবে বর্তমান সময়ে একক পরিবার, যৌথ পরিবার, দত্ত পরিবার ইত্যাদি দেখা যায়। সামাজিকীকরণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সামাজিক পরিচয়, ভালোবাসা ও যত্ন, এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
পরিবার কত প্রকার ও কি কি
সমাজের ক্ষুদ্রতম সংঘ হলো পরিবার। পরিবেশ, ঐতিহ্য, দেশ, কাল ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে পরিবারের প্রকারভেদ নির্ভর করে। পরিবারের প্রধান কয়েকটি রূপ হল:
পিতৃ শাসিত ও মাতৃ শাসিত পরিবার।
পিতৃ আবাসিক ও মাতৃ আবাসিক পরিবার।
একগামী ও বহুগামী পরিবার।
মাতৃ বংশানুক্রমিক ও পিতৃ বংশানুক্রমিক পরিবার।
একক পরিবার ও যৌথ পরিবার।
এক পত্নীক পরিবার ও বহু পত্নীক পরিবার।
বহুপতি পরিবার।
গোষ্ঠী পরিবার।
পিতৃ শাসিত ও মাতৃ শাসিত পরিবার
যে পরিবারের পিতার সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে গণনা করা হয় তাকে পিতৃ শাসিত পরিবার বলে। অপরদিকে যে পরিবারে মায়ের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা হয় তাকে মাতৃ শাসিত পরিবার বলে। পিতৃ শাসিত পরিবারে পুরুষতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রাধান্য পায় এবং মাতৃ শাসিত পরিবারে মায়ের কথা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।
পিতৃ আবাসিক ও মাতৃ আবাসিক পরিবার
বিয়ের পর যদি কন্যা তার স্বামীর গৃহ প্রবেশ করে এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে তখন তাকে পিতৃ আবাসিক পরিবার বলে। এই ধরনের পরিবারের পিতার পরিচয়েই সন্তান পরিচিত হয়। অপরদিকে মাতৃ আবাসিক পরিবারে একজন পুরুষ কোন মেয়েকে বিয়ে করে মেয়ের মায়ের বাড়িতে অবস্থান করে। এই ধরনের মাতৃ আবাসিক পরিবারে মায়ের কথাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।
একগামী ও বহুগামী পরিবার
যখন কোন পুরুষ একজন মহিলাকে বিয়ে করে যৌন সম্পর্কের ভিত্তিতে একটি পরিবার গড়ে তোলে তখন তাকে একগামী পরিবার বলে। পরিবারের সাধারণত একজন পুরুষের কেবলমাত্র তার স্ত্রীর সাথেই যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।
অপরদিকে বহুগামী পরিবারে একজন পুরুষ একাধিক পত্নীর সাথে সংসার গড়ে তুলতে পারেন। বহুগামী পরিবারে একাধিক পুরুষ এবং একাধিক মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।
মাতৃ বংশানুক্রমিক ও পিতৃ বংশানুক্রমিক পরিবার
যেসব পরিবারের সন্তান জন্মের পর মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হয় এবং মাতৃকুলের বংশধর রূপে বিবেচিত হয় তখন তাকে মাত্রই বংশানুক্রমিক পরিবার বলা হয়ে থাকে। মাতৃ বংশানুক্রমিক পরিবারের সকল সম্পদের মালিক সাধারণত কন্যা সন্তানরাই হয়ে থাকে।
অপরদিকে, যে সব পরিবারের সন্তানরা পিতার পরিচয়ে পরিচিত হয় এবং পরবর্তীতে পিতার সকল সম্পদের মালিকানার অধিকারী হয় তখন তাকে পিতৃ বংশানুক্রমিক পরিবার বলা হয়ে থাকে।
একক পরিবার ও যৌথ পরিবার
শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সন্তান-সন্ততি নিয়ে যে পরিবার গড়ে ওঠে তাকে একক পরিবার বলে। একক পরিবারের আকার তুলনামূলক খুবই ছোট হয়ে থাকে। তবে আধুনিক সমাজে প্রযুক্তিবিদ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবার তৈরি করা হচ্ছে।
শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ছাড়াও রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ পরিবারের যেসব সদস্য রয়েছে তাদেরকে নিয়ে যে পরিবার গঠন করা হয় তাকে যৌথ পরিবার বলা হয়। যৌথ পরিবারের আকার তুলনামূলক বড় যার ফলশ্রুতিতে, পরিবারের কোন সদস্যে মৃত্যু হলেও কোনরকম মৌলিক পরিবর্তন ঘটে না।
এক পত্নীক পরিবার ও বহু পত্নীক পরিবার
একজন পুরুষ যখন শুধুমাত্র একজন মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার গড়ে তোলে তখন তাকে এক পত্নীক পরিবার বলা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে বেশিরভাগ পরিবারই এক পত্নীক পরিবার।
অপরদিকে যখন একজন পুরুষ একাধিক মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করে তোলে তখন তাকে বহু পত্নীক পরিবার বলা হয়। বহু পথিক পরিবার সাধারণত সমতার পরিপন্থী এবং জটিল ধরনের হয়ে থাকে।
বহুপতি পরিবার
যখন একজন মহিলা একাধিক পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরিবার গড়ে তোলে তখন তাকে বহুপতী পরিবার বলে। তবে আমাদের সমাজে বহুপতি পরিবার খুব একটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে এ ধরনের বিবাহকে অনৈতিক এবং অসামাজিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
গোষ্ঠী পরিবার
যখন একটি পরিবারে একাধিক প্রজন্মের মানুষ বাস করে তখন তাকে গোষ্ঠী পরিবার বলে। অর্থাৎ, দাদা – দাদী, চাচা- চাচি, মামা মামি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ যখন একই সাথে একই সংসারে বাস করে তখন তাকে গোষ্ঠী পরিবার বলা হয়।
অন্তঃগোত্রীয় এবং বহুগোত্রীয় বিবাহ ভিত্তিক পরিবার
প্রাচীনকালে সমাজের অন্তঃগোত্রীয় বিবাহ প্রথা চালু ছিল। এখানে শুধুমাত্র একজন পুরুষ তার নিজ গোত্রের কন্যাকেই বিবাহ করতে পারবে। এবং গোত্রের বাইরে যখন কোন ছেলে কোন মেয়েকে বিবাহ করে তখন তাকে বহু গোত্রীয় বিবাহ ভিত্তিক পরিবার বলে।
Categories
Latest Blogs
-
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) নিয়োগ...
March 13, 2026 -
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়োগ...
March 11, 2026 -
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ নিয়োগ...
March 09, 2026 -
পুলিশ নিয়োগ ২০২৬
February 27, 2026 -
প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি...
February 26, 2026