পৌরনীতি কাকে বলে

পৌরনীতি কাকে বলে
Admin November 26, 2024 253

একটি শহর বা নগর এলাকার ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা যা নাগরিকদের জন্য সুবিধা ও সেবা নির্ভর করে। এটি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন সেবার ব্যবস্থা করে থাকে, যেমন সড়ক পরিবহন, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা ইত্যাদি।

পৌরনীতি শব্দটি গ্রিক শব্দ "πόλις" থেকে উৎপন্ন হয়েছে যা শহর বা নগর বোঝায়। পৌরনীতির উৎপত্তি হল প্রাচীন গ্রীক সভ্যতার সময়ে, এবং এর উদ্দেশ্য ছিল নাগরিকদের জনসাধারণ সেবা প্রদান করা।

নাগরিক অধিকার

সমাজ ও রাষ্ট্র কর্র্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। অধিকার ছাড়া মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অধিকার অপরিহার্য

নাগরিকের নৈতিক অধিকার

মানুষের বিবেক ও সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে যে অধিকার আসে তাকে নৈতিক অধিকার বলে। নৈতিক অধিকারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন দুর্বলকে সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্র্তৃক প্রণয়ন করা হয় না। যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তা ছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন ধরনের হতে পারে

নাগরিকের আইনগত অধিকার

যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্র্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার। সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি। যেমন জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মতপ্রকাশের অধিকার ইত্যাদি। নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সব ধরনের অভাব-অভিযোগের আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া এগুলো রাজনৈতিক অধিকার। আবার জীবনধারণ, জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার প্রভৃতি হচ্ছে নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার। এসবই নাগরিকের আইনগত অধিকার

জন্মস্থান নীতি অনুসারে বাংলাদেশে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি

জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে, সে সেই দেশের নাগরিক হবে। এ নীতি অনুসারে পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ওই রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ নীতি অনুসারে কোনো মা-বাবার সন্তান অন্য দেশের জাহাজ বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করলেও জাহাজ বা দূতাবাস যে দেশের, সে ওই দেশের নাগরিক হবে।

অনুমোদনসূত্রে কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার পদ্ধতি

কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলা হয়। সাধারণত অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত পালন করতে হয়, সেগুলো হলো ১. সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, ২. সরকারি চাকরি করা, ৩. সততার পরিচয় দেওয়া, ৪. সে দেশের ভাষা জানা, ৫. সম্পত্তি ক্রয় করা, ৬. দীর্ঘদিন বসবাস করা ও ৭. সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এসব শর্তের এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে তাকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদন ওই রাষ্ট্রের সরকার কর্র্তৃক গৃহীত হলে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকে পরিণত হয়।