নফল রোজার নিয়ত

রোযার দ্বিতীয় প্রকার হল সুন্নত, নফল (অতিরিক্ত) রোযা; যা পালন করা মুসলিমের জন্য ওয়াজেব নয়। কিন্তু পালন করলে ফযীলত ও সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। মহান আল্লাহর একটি হিকমত ও অনুগ্রহ এই যে, তিনি ফরয ইবাদতের মতই নফল ইবাদতও বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি যে আমল ফরয করেছেন, অনুরূপ সেই আমল নফলও করেছেন বান্দার জন্য। ফরয ইবাদতের মাঝে একদিকে যেমন ঘটিত ত্রুটি নফল ইবাদত দ্বারা পূরণ হয়ে যায়। তেমনি অপর দিকে তারই মাধ্যমে আমলকারীর নেকী ও সওয়াব বৃদ্ধি হয়। পক্ষান্তরে তা বিধিবদ্ধ না হলে তা পালন করা ভ্রষ্টকারী বিদআত বলে গণ্য হত। আর হাদীসে বলা হয়েছে যে, ‘‘কিয়ামতের দিন নফল ইবাদত দ্বারা ফরয ইবাদতের অসম্পূর্ণতা পূর্ণ করা হবে।
নফল রোযার জন্য নিয়ত
নফল রোযার নিয়ত ফজরের আগে থেকে হওয়া জরুরী নয়। বরং দিনের বেলায় সূর্য ঢলার আগে বা পরে নিয়ত করলেই রোযা শুদ্ধ হয়ে যায়। অবশ্য ফরয রোযার বেলায় তা হয় না- যেমন পূর্বেই এ কথা আলোচিত হয়েছে। তবে নফল রোযার ক্ষেত্রেও শর্ত হল, যেন নিয়ত করার আগে ফজর উদয় হওয়ার পর কোন রোযা নষ্টকারী জিনিস ব্যবহার না করা হয়। বলা বাহুল্য, যদি তা (পানাহার বা অন্য কিছু) ব্যবহার করে থাকে তাহলে রোযা হবে না।
এ কথার দলীল মা আয়েশার হাদীস; তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে (খাবার) কিছু আছে কি? বললেন জী না। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, তাহলে আজকে আমি রোযা থাকলাম। আর এই আমল ছিল সাহাবা (রাযি.)দের। কিন্তু জানার কথা যে, দিনের বেলায় নিয়ত করলে, কেবল নিয়ত করার পর থেকেই সওয়াবের অধিকারী হবে। সুতরাং কেউ সূর্য ঢলার সময় নিয়ত করলে সে কেবল অর্ধেক রোযার সওয়াব প্রাপ্ত হবে; তার বেশী নয়। যেহেতু প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়, যার সে নিয়ত করে থাকে।