মৌলিক পদার্থ কাকে বলে

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে
Admin December 01, 2024 333
সাধারণ ভাষায় একটি মৌলিক পদার্থ কী সম্পর্কে জানুন। মৌলিক উপাদানের ধারণা, তাদের সংজ্ঞা এবং বিজ্ঞানের উদাহরণগুলি অন্বেষণ করুন। আবিষ্কার করুন কিভাবে মৌলিক পদার্থ পদার্থের বিল্ডিং ব্লক তৈরি করে। ছাত্রদের জন্য উপযুক্ত এবং যে কেউ এর মৌলিক বিষয়ে আগ্রহী। বাংলায় রসায়ন!

মৌলিক পদার্থ কাকে বলে
যে পদার্থকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে বিভাজিত করে দুই বা ততোধিক ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থে বিশ্লিষ্ট করা যায় না, অর্থাৎ যে পদার্থ হতে সাধারণভাবে সেই পদার্থ ব্যতীত অন্য কোন নূতন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌল বা মৌলিক পদার্থ বলে।

এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি। এগুলো হলো (বর্ণানুক্রমিক তালিকা)-

অক্সিজেন, অসমিয়াম, অ্যাক্টিনিয়াম, অ্যান্টিমনি, অ্যালুমিনিয়াম, অ্যাস্টেটিন, আইনস্টেইনিয়াম, আমেরিশিয়াম, আয়োডিন, আর্গন, আর্সেনিক, ইউনুনট্রিয়াম, ইউরোপিয়াম, ইট্টারবিয়াম, ইট্রিয়াম, ইন্ডিয়াম, ইউরেনিয়াম, ইরিডিয়াম, এর্বিয়াম, ওগানেসন কার্বন, কুরিয়াম, কোপার্নিসিয়াম, কোবাল্ট, ক্যাডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্যালিফোর্নিয়াম, ক্লোরিন, ক্রিপ্টন, ক্রোমিয়াম, গন্ধক, গ্যাডোলিনিয়াম, গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম, জিরকোনিয়াম, জেনন, টাইটেনিয়াম, টাংস্টেন, টারবিয়াম, টিন, টেকনেশিয়াম, টেনেসাইন টেলুরিয়াম, ট্যান্টালুম, ডার্মস্টাটিয়াম,  ডিসপ্রোসিয়াম, ডুবনিয়াম, তামা, থুলিয়াম, থোরিয়াম, থ্যালিয়াম, দস্তা, নাইওবিয়াম, নাইট্রোজেন, নিওডিমিয়াম, নিকেল, নিয়ন, নেপচুনিয়াম, নোবেলিয়াম, পটাশিয়াম, পারদ, পোলোনিয়াম, প্যালাডিয়াম, প্রেসিওডিমিয়াম, প্রোট্যাক্টিনিয়াম, প্রোমেথিয়াম, প্লাটিনাম, প্লুটোনিয়াম, ফসফরাস, ফার্মিয়াম, ফ্লেরোভিয়াম, ফ্রান্সিয়াম, ফ্লোরিন, বার্কিলিয়াম, বিসমাথ, বেরিয়াম, বেরিলিয়াম, বোরন, বোহরিয়াম, ব্রোমিন, ভ্যানাডিয়াম, মস্কোভিয়াম, মাইটনেরিয়াম, মেন্ডেলেভিয়াম, মোলিবডেনাম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, রন্টজেনিয়াম, রাদারফোর্ডিয়াম, রুথেনিয়াম, রূপা, রুবিডিয়াম, রেডন, রেডিয়াম, রেনিয়াম, রোডিয়াম, লরেনসিয়াম, লিথিয়াম, লিভারমোরিয়াম, লুটেসিয়াম, লৌহ, ল্যান্থানাম, সিজিয়াম, সিবোর্গিয়াম, সিলিকন, সীসক, সেরিয়াম, সেলেনিয়াম, সোডিয়াম, স্ক্যান্ডিয়াম, স্ট্রনশিয়াম, স্বর্ণ, স্যামারিয়াম, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, হোল্‌মিয়াম. হ্যাফনিয়াম ও হ্যাসিয়াম।

মৌলিক পদার্থ ৪টি অবস্থাদশায় থাকতে পারে। এগুলো হল-গ্যাস, তরল, কঠিন ও প্লাজমা

গ্যাস:  গ্যাসীয় দশায় থাকা মৌলিক পদার্থ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল বা কোনো পাহাড়ের গুহা, খনি, বা কোনো আবদ্ধ স্থানে পাওয়া যায়। গ্যাসীয় দশায় যেসকল মৌলিক পদার্থগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো হলো- অক্সিজেন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, নাইট্রোজেন, নিয়ন, রেডন, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম।এর ভিতর কিছু গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থ আছে, যেগুলো রাসায়নিক ক্রিয়ার বিচারে নিষ্ক্রিয়। এই জাতীয় গ্যাসকে নিষ্ক্রিয় বা মহার্ঘ গ্যাস বলা হয়। এই শ্রেণির মৌলিক পদার্থগুলো হলো আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, নিয়ন, রেডন ও হিলিয়াম।

তরল পদার্থ:
কঠিন বস্তুদশা: কঠিন দশায় প্রাপ্ত মৌলিক পদার্থের সংখ্যা সর্বাধিক। এই জাতীয় মৌলকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। ভাগগুলো হলো-
অধাতু: এতে ধাতব দ্যুতি নেই এবং আলো প্রতিফলন করতে পারে না। অধাতু ঘাতসহ নয় এবং অনমনীয়। অধাতুর ঘনত্ব ধাতুর চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম। হাইড্রোজেন  ছাড়া অধাতু তাপ সুপরিবাহী নয়। ধাতুর গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক ধাতুর চেয়ে কম। অধাতু ঋণাত্মক বিদ্যুৎধর্মী। হাইড্রোজেন ছাড়া সকল অধাতু কারণে ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়। অধাতু গুণবিশিষ্ট মৌলগুলো হলো- অক্সিজেন, আর্গন, আয়োডিন, এ্যাস্টাটিন, কার্বন, ক্লোরিন, ক্রিপ্টন, গন্ধক, জেনন, নিয়ন, নাইট্রোজেন, সিলিকন, ফসফরাস, ব্রোমিন, রেডন, সেলেনিয়াম, ফ্লোরিন, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম।  অধাতুর উপবিভাগ্ আছে। যেমন-
হ্যালোজেন: ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন এবং এ্যাস্টেটিনকে নিয়ে একটি দলগত নাম।
 

ধাতু: যে সকল মৌল কক্ষতাপ মাত্রায় কঠিন অবস্থায় থাকে এবং পিটিয়ে পাতলা পাতের মতো করা যায়। এই তালিকায় যে সকল মৌলের নাম পাওয়া যায় তা হলো- ইট্‌ট্রিয়াম, ইন্ডিয়াম, ইরিডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, কোবাল্ট, ক্যাডিয়াম, এ্যালুমিনিয়াম ক্যালসিয়াম, ক্রোমিয়াম, গ্যালিয়াম, টাইটেনিয়াম, তামা, দস্তা, নিকেল, পটাশিয়াম, প্লাটিনাম, বেরিলিয়াম, ভ্যানাডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, লিথিয়াম, রূপা, রোডিয়াম, লৌহ, সোডিয়াম, সোনা, স্ক্যান্ডিয়াম।


অর্ধধাতু: যে সকল মৌলের ভৌত ধর্ম ধাতুর মতো, কিন্তু রাসায়নিক ধর্ম ধাতু ও অধাতুর মতো। এই জাতীয় মৌলগুলো নিয়ে মতানৈক্য। ফলে সকলের অর্ধধাতু তালিকায় একই রকম হয় না। তবে সাধারণভাবে ৬টি মৌলকে অর্ধধাতু বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো- অ্যান্টিমনি, আর্সেনিক, জার্মেনিয়াম, টেলুরিয়াম, বোরন, সিলিকন।