মাটি কাকে বলে

মাটি কাকে বলে
Admin November 28, 2024 295
মাটির সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এই আর্টিকেলে আপনি মাটির গঠন, উপাদান এবং জীববিজ্ঞানে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন। মাটির বিভিন্ন স্তর ও ধরন নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

মাটি কাকে বলে
মাটি বা মৃত্তিকা বলতে আমরা পৃথিবীর উপরিভাগের ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা, জৈব পদার্থ, পানি এবং বায়ু দ্বারা গঠিত নরম স্তরকে বোঝায়।পৃথিবীর জল, বায়ু,খনিজ এবং জৈব পদার্থের সাথে মিশে গিয়ে ভাগের সমান্তরালে ভূ-ভাগের সমান্তরালে যে পাতলাআবরণের সৃষ্টি হয়েছে, তাকে মাটি বলে।

মাটির গুনাগুন

মাটিতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির গুনাগুন থাকে। মাটি হলো ভূপৃষ্ঠের উপরিতলের নরম খনিজ এবং জৈব উপাদানের মিশ্রণ যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মাটিতে প্রধানত চার(৪)ধরনের উপাদান নিয়ে গঠিত যথাঃ

বায়ু-২৫%
পানি-২৫%
খনিজ পদার্থঃ

ভূ-ত্বক প্রথমে শিলা দ্বারা গঠিত ছিল। সময়ের সাথে সাথে, শিলা ক্ষয় প্রক্রিয়া (যেমন বৃষ্টি, বাতাস, তাপমাত্রার পরিবর্তন) এর প্রভাবে শিলা ভেঙ্গে ছোট ছোট খণ্ডে পরিণত হয়। এই খণ্ডগুলো বালি, পলি এবং কর্দম নামে পরিচিত।মাটি এই বালি, পলি, কর্দম, জৈব পদার্থ এবং অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদান (যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম) এর মিশ্রণ দ্বারা গঠিত হয়।শিলা ক্ষয় প্রক্রিয়া মাটিতে এই খাদ্যোপাদানগুলো মুক্ত করে।মাটিতে খনিজের পরিমাণ ৪৫%।মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ সাধারণত ১-২% থাকে। তবে, হিম অঞ্চলের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ ২-৫% পর্যন্ত হতে পারে। এই জৈব পদার্থ উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্টাংশ এবং মলমূত্র থেকে তৈরি হয়।মাটির আবদ্ধকরণ পদার্থ হিসেবে জৈব পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং মাটির কাঠামো উন্নত করে।মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুব কম হলেও এটি মাটির গুণাবলী নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।বর্ষাকালে: প্রবল বৃষ্টিপাত বা সেচের ফলে মাটির অধিকাংশ রন্ধ্র পানিতে ভরে যায়। শুষ্ক মৌসুমে: এই রন্ধ্রগুলো বায়ু দ্বারা পূর্ণ থাকে।মাটির বায়ু: বায়ুমন্ডলের বায়ুর তুলনায় মাটির বায়ুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয়বাষ্প বেশি থাকে, অক্সিজেন কম থাকে।


মাটির প্রকারভেদ

মাটি সাধারণত তিন(৩) প্রকার যথাঃ
এটেল মাটি
দোআঁশ মাটি
বেলে মাটি

এটেল মাটি কাকে বলে

এটেল মাটিতে বালু অপেক্ষা পলি ও কাদার ভাগ বেশি থাকে।
এ কাদা মাটি খুব নরম, দানা খুব ছোট ও মিহি।
এ মাটি বেশি পানি ধরে রাখতে পারে।
এ মাটিতে ভালভাবে বাতাস চলাচল করতে পারেনা।
এ মাটি সব ফসলের জন্য তেমন উপকারী নয়, তবে ধান চাষ করা যায়।

দোআঁশ মাটি কাকে বলে

দোআঁশ মাটিতে বালি, পলি ও কাদা সম পরিমানে থাকে।
এ মাটির পানি ধারন ক্ষমতা মাঝারী।
চাষাবাদের জন্য দোআঁশ মাটি উপযুক্ত।
এ মাটিতে ধান, পাট, গম, পিয়াজ, মরিচ, ভূট্টা, আলু, শাকসবজি ইত্যাদি ভাল জন্মে।

বেলে মাটি বৈশিষ্ট্য

বেলে মাটিতে বালির ভাগ বেশি থাকে।

এ মাটির পানি ধারন ক্ষমতা কম।