বল কাকে বলে

Admin
November 30, 2024
232
বলের সবচেয়ে সহজ ধারনা হলো টানা বা ঠেলা যা কোন ভর যুক্ত পদার্থের বা বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়।। অর্থাৎ এর প্রভাবে স্থির বস্তু গতিশীল হয় বা গতিশীল বস্তুর গতির পরিবর্তন হয় বা স্থির অবস্থার সৃষ্টি হয়। শুধু মান দিয়ে বলকে প্রকাশ করা যায় না এবং বলে মান ও দিক উভয়ই আছে বিধায় বল একটি ভেক্টর রাশি। এর একক নিউটন।
মৌলিক বল চার প্রকার।
১। মহাকর্ষীয় বলঃ মহাবিশ্বের যে কোন স্থানে দুটি বিন্দু বা কণা স্থাপন করলে তারা একে অপরকে নিজেদের ভরের সমানুপাতে আকর্ষন করে। দুটি কণার মধ্যবর্তী এ আকর্ষন বলকে মহাকর্ষ বল বলে। সমস্ত বলের মধ্যে সবচাইতে দুর্বল বল হলো মহাকর্ষ বল।
২। তড়িৎ চুম্বকীয় বলঃ দুটি আহিত কণা তাদের আধানের কারণে একে অপরের উপর যে আকর্ষন বা বিকর্ষন বল প্রয়োগ করে তাকে তড়িৎ চুম্বকীয় বল বলে। এর আপেক্ষিক সবলতা ১০^৩৯।
৩। সবল নিউক্লিয় বলঃ পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ন বা উপাদানগুলোকে একত্রে আবদ্ধ রাখে যে শক্তিশালী বল তাকে সবল নিউক্লিয় বল বলে। এ বল নিউট্রন ও প্রোটনকে আবদ্ধ রেখে নিউক্লিয়াস গঠন করে। এর আপেক্ষিক সবলতা ১০^৪১। এটিই মহাবিশ্বের সবচাইতে সবল বল।
৪। দুর্বল নিউক্লিয় বলঃ যে স্বল্প পাল্লার ও স্বল্প মানের বল মৌলিক পরমাণু সমুহের নিউক্লিয়াসের মধ্যে ক্রিয়া করে অস্থিশীলতার সৃষ্টি করে তাকে দুর্বল নিউক্লিয় বল বলে। এর আপেক্ষিক সবলতা ১০^৩০।
বলের নিরপেক্ষ নীতি
নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রানুসারে সময়ের সাথে বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তন বলের ক্রিয়া অভিমুখে সংঘটিত হবে। কাজেই বলের ক্রিয়া অভিমুখে বস্তুতে যে ভরবেগ থাকবে সময়ের সাথে তাই শুধু পরিবর্তিত হবে। একাধিক বলের ক্ষেত্রেও একের ক্রিয়া অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হবে না। বস্তুর উপর বলের ক্রিয়ার এই বৈশিষ্ট্যকে বলের নিরপেক্ষ নীতি বা ভৌত অনির্ভরশীলতা বলা হয়।
মৌলিক বল
যে সকল বল মূল বা স্বাধীন অর্থাৎ যে সকল বল অন্য কোনো বল থেকে উৎপন্ন হয় না বা অন্য কোনো বলের কোনো বলের কোনো রূপ নয় বরং অন্যান্য বল এই সকল বলের কোনো না কোনো রূপের প্রকাশ তাদেরকে মৌলিক বল বলে।